মুক্তিযোদ্ধার জন্য বয়স নয়, প্রমাণই যথেষ্ট। মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স ১২ বছর ৬ মাস করে সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স নির্ধারণ সংক্রান্ত সব আইন ও পরিপত্র অবৈধ হয়ে গেলো।
বেশ কয়েকটি রিট আবেদনের শুনানির পর হাইকোর্ট রবিবার এ আদেশ দেয়। মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার জন্য বয়স নির্ধারণের জন্য পরিপত্রকে চ্যালেঞ্জ করে ১৭ জন মুক্তিযোদ্ধা আদালত রিট আবেদন দায়ের করেন।
রিট আবেদনকারীদের অন্যতম সাজ্জাদ হোসেনের আইনজীবী ছিলেন ওমর সাদাত।
তিনি বলেন, সরকারের পরিপত্রের মাধ্যমে বহু শিশু-কিশোর মুক্তিযোদ্ধাদের অস্বীকার করা হচ্ছে। সেজন্য আদালত এ পরিপত্রটি বাতিল করে দিয়েছে।
"আমাদের যে বীর প্রতীক ছিলেন শহিদুল ইসলাম লালু, মুক্তিযুদ্ধের সময় যার বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর, তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে বীর প্রতীক উপাধি প্রদান করেছিলেন। ছবিও আছে যে তাকে বঙ্গবন্ধু কোলে নিয়ে আছেন," বলছিলেন আইনজীবী ওমর সাদাত।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে কোন তর্কের অবকাশ নেই। ঐতিহাসিক দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে এটি নির্ধারণ করতে হবে। আইনজীবী মি: সাদাত বলেন, আদালত তাদের বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেন।
ব্রিটেনের উদাহরণ আদালতে উপস্থাপন করে মি: সাদাত বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সাসেক্সের আট বছর বয়সী এক শিশু যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল।
১৯৭২ সাল থেকে বিভিন্নভাবে প্রায় ১০বার মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কখনোই সেটি বয়স দ্বারা নির্ধারণ করা হয়নি।
২০১৫ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার জন্য বয়স নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে সাড়ে বারো বছর।
আদালতকে উদ্ধৃত করে আইনজীবী মি: সাদাত বলেন , "আদালত বলেছেন যে মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স দ্বারা বাধা যাবেনা। ঐতিহাসিক দলিল প্রমাণের ভিত্তিতে এটা নির্ধারণ করতে হবে।"
এএস





