বিএনপির নাগরিক সমাবেশ পন্ড করে দেয়ার পর এবার দেশব্যাপী খুন, গুম ও অপহরণের প্রতিবাদে  আইনজীবীরা ডাকা সমাবেশও করতে দিচ্ছে না পুলিশ। সুপ্রীমকোর্ট প্রাঙ্গণে আজ (শনিবার) এ সমাবেশ হওয়ার কথা।এই সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যোগ দেয়ার কথা রয়েছে।
সমাবেশকে কে কেন্দ্র করে সকালেই সুপ্রিম কোর্টের মেইন গেট ও বার কাউন্সিলের পাশের গেটসহ সকল প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া মাজার গেট এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে পুলিশ। তল্লাশি করে সীমিত পরিসরে সাংবাদিক প্রবেশ করতে দেয়া হলেও কোনো আইনজীবীকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না আদালত প্রাঙ্গণে।
সকালে ভঙ্গুর মঞ্চে প্রায় ২০ জনের মতো আইনজীবীকে বসে থাকতে দেখা গেছে। শুক্রবার রাত থেকে তারা মঞ্চে অবস্থান করছেন। এছাড়া সকালে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সমাবেশ স্থলে পৌঁছেন।  
তবে পুলিশের বাধার মুখে সমাবেশ করা সম্ভব হবে কিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সমাবেশে যোগ দিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সকাল থেকে এমন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আয়োজিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সমাবেশকে কেন্দ্র করে।
রেজিস্ট্রারের অনুমতি না নেওয়ার কারণ দেখিয়ে পুলিশ সমাবেশে ঢুকতে দিচ্ছে না আইনজীবীদের। সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এর আগে রাতেই মঞ্চের আলো নিভিয়ে দেয়া হয়। একই সঙ্গে চেয়ার ও ফ্যান সরিয়ে নেয় পুলিশ। পুলিশ শুক্রবার রাতে জানায়, রেজিস্ট্রারের অনুমোদন ছাড়া সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না।
অপরদিকে, আইনজীবীরা রাতেই সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে সাংবাদিকদের জানান, যে কোনো মূল্যে সমাবেশ করা হবে। মঞ্চ না থাকলেও খালেদা জিয়া সমাবেশে যোগ দেবেন।
তবে সকালে রাতের অবস্থা পাল্টে গেছে। সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্টের সবগুলো গেটে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মাজার গেট দিয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা তাতে বাধা দেয়। এসময় পুলিশের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় পুলিশের প্রিজন ভ্যান, এপিসি কার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মূল গেটে পুলিশের পাশাপাশি অবস্থান করছে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরাও।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার সাব ইন্সপেক্টর ওয়াহেদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, নিরাপত্তার সার্থেই গেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই আমাদের এ অবস্থান।
গত ২২ মে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারর্স ইনস্টিটিউটে গুম, খুন ও হত্যার প্রতিবাদে মহানগর বিএনপির নাগরিক সমাবশও করতে দেয়নি পুলিশ।
[b]ঢাকা, ২৪ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ[/b]