রাজধানীর ভাষানটেক থানার ১৯ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করাহয়েছে। গত ১০ অক্টোবর শুক্রবার রাতে মামাতো বোনকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় উত্ত্যক্তকারীদের হাতে খুন হনভাই নাসির (২৫)।এইখুনের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার কারণে তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কারনে তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ভাষানটেক পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমানও রয়েছেন।

উত্ত্যক্তের শিকার মেয়েটির বাবাকে চাপে ফেলে একটি জিডি করিয়ে নেয় পুলিশ। এতে উল্লেখ করা হয় মেয়েটি উত্ত্যক্তের শিকার হয়নি। এছাড়া নিহতের ভাই যাদের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন তাদের নাম মামলার এজহারে নেই বলেও প্রমাণ পাওয়া যায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, নাসির পেশায় মাছ ব্যবসায়ী।মামাতো বোনকে উত্ত্যক্ত করার সময় প্রতিবাদ করেননাসির হোসেন ।এরই ফলশ্রুতিতে বখাটেরাশুক্রবার রাতে নাসিরকে একা পেয়ে জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে নাসিরকে।

এই ঘটনায় শনিবার নিহতের ভাই মোশারফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বখাটেরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

মোশারফ হোসেন শনিবার ভাষানটেক থানায় স্থানীয় যুবক বাবলু, মামুন, সোহেল, সুজন, চোক্কা ও দাঁতভাঙা খোকনসহ আরো ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আাসামি করে একটি মামলা করেন।

তিনি জানান, নিহতের মামাতো বোন ভাষানটেক মুক্তিযোদ্ধা স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। স্থানীয় যুবক বাবলু, মামুন, সোহেল, সুজন, চোক্কা ও দাঁতভাঙা খোকন ছোট বোনকে বিভিন্ন অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিতে উত্ত্যক্ত করত। ছোট বোনকে শুক্রবার বিকেলে বখাটেরা উত্ত্যক্ত করলে নাসির এর প্রতিবাদ করে। উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নাসিরকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে বখাটেরা।

ঘটনার বর্ণনায় মোশারফ হোসেন বলেন, "শুক্রবার রাতে নাসির ভাষানটেকের মজুমদার মোড়ে চা খাচ্ছিলেন। সেখান থেকে ওই বখাটেরা নাসিরকে পশ্চিম ভাষানটেকের গোলটেক নামক স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তারা লোহার পাইপ, ইট এবং পাথরের আঘাতে নাসিরকে জখম করে।"

নিহত নাসির হোসেন বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার মতিন সরকারের ছেলে। বর্তমানে তারা পূর্ব ভাষানটেকের দীন মোহাম্মদ কলোনির ৯৩/১/এ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকেন।

 

ইআর