মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও অন্যান্যরা মনে করেন ন্যায় বিচার হলে তিনি অবশ্যই খালাস পাবেন।
আগামীকাল বুধবার এ রায় ঘোষণা করবে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।
বুধবার সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগের পুর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন।
এ বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি এস কে (সুরেন্দ্র কুমার) সিনহা, বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান ও সুপ্রিমকোর্ট আইজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব বলেন,‘সম্পূর্ণ মিথ্যাভাবে সাঈদীকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমরা যে সব কাগজপত্র দিয়েছি,৫ জন বিচারপতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তা দেখে ন্যায়বিচার করবেন।’ তিনি বলেন,সাঈদীকে দু'টি অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল থেকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ দু'টি হলো- ইব্রাহিম কুট্টি ও বিশা বালীকে হত্যার অভিযোগ। ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যার বিষয়ে প্রসিকিউশন ও তার স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় সময় ও স্থানের ভিন্নতা রয়েছে।
খন্দকার মাহবুব বলেন,ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যার ঘটনাটি সত্য হতে পারে। কিন্তু তাকে হত্যা করেছে দেলওয়ার শিকদার। দেলওয়ার শিকদার ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এক ব্যক্তি নয়।
তিনি আরও বলেন,‘আমরা তখন আবেদন করেছিলাম ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যার বিষয়ে তার স্ত্রীর দায়ের করা মামলার মূল নথিপত্র বিচারিক আদালত থেকে তলব করা হোক। কিন্তু আদালত সে আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।’
সাঈদীর বিরুদ্ধে আনা বিশা বালীকে হত্যা অভিযোগের বিষয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন,বিশা বালীর ভাই সুখরঞ্জন বালীকে প্রসিকিউশনের সাক্ষী করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি মিথ্যা সাক্ষ্য দেবেন না বলে সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে এসেছিলেন। অথচ তাকে ট্রাইব্যুনালের গেট থেকে তুলে নিয়ে গেছে সাদা পোশাকধারীরা।
তিনি আরও বলেন,এ ছাড়া সুখরঞ্জন বালী দিগন্ত টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন,তাকে সাইদীর বিরুদ্ধে মিথ্যাভাবে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি মিথ্যা কথা বলতে রাজি নন। তাই প্রসিকিউশনের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে যাননি।
এ ছাড়া তার ভাইকে হত্যার ঘটনায় সাঈদী জড়িত নন বলেও জানিয়েছিলেন সুখরঞ্জন বালী।
সাঈদীর মামলার অন্য আইনজীবী তাজুল ইসলাম জানান, এ মামলার তথ্য প্রমান সম্পূর্ন মিথ্যা । আদালতে মামলার সাক্ষীকে হাজির করতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষ তাকে অপহরন করেন। বর্তমানে সে ভারতে আছে। দেলোয়ার শিকদারকে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বানিয়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সাঈদী অবশ্যই খালাস পাবেন।
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদন্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সাঈদীর বিরুদ্ধে ২০টি অভিযোগে চার্জ গঠন করেছিল ট্রাইব্যুনাল। এরমধ্যে ৮টি অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং ১২টিতে তাকে খালাস দেয়া হয়।
প্রমাণিত ৮টি অভিযোগ হচ্ছে ৬, ৭, ৮, ১০, ১১, ১৪, ১৬ এবং ১৯। এরমধ্যে ৮ এবং ১০ নং অভিযোগে সাঈদীকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। এ দুইটির মধ্যে রয়েছে ইব্রাহিম কুট্রি হত্যা ও বিশাবালী হত্যার অভিযোগ। দুইটি অভিযোগে সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় প্রমাণিত অপর ছয় অভিযোগে সাজা প্রয়োজন নেই বলে ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করে।
ঢাকা, কেএ, ১৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর





