চল্লিশ হাজার অপরাধীর তথ্য সম্বলিত ডাটাবেজ তৈরি করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র্যাব)। এই ডাটাবেজে সংরক্ষণ থাকবে অপরাধীদের ১৫০ ধরণের ব্যক্তিগত তথ্য, ফিঙ্গার প্রিন্ট ও আইরিশ স্ক্যান (চোখের মনি স্ক্যান), ডিএনএ তথ্য, স্থায়ী ঠিকানা।
যখনই কোন অপরাধী ধরা পড়বে তখনই ডাটাবেজে তথ্য মিলিয়ে পূর্বের সব রেকর্ড পরীক্ষা করা হবে। এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে এই ডাটাবেজ সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো অপরাধী আর মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিজেকে আড়ালে রাখতে পারবে না। ধরা পড়বে র্যাবের হাতে। এমনটাই মনে করছেন র্যাব সংশ্লিষ্টরা।
দেশের অপরাধীদের তথ্য সম্বলিত এই ডাটাবেজে ৬৭টি কারাগারের মধ্যে ৬৪ কারাগারের ফৌজদারী আইনে দন্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের তথ্যও এই ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে র্যাব সদর দপ্তরে চল্লিশ হাজার অপরাধীর এই ‘ক্রিমিনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে’র উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
এই ডাটাবেজ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘র্যাব প্রতিষ্ঠার পর তাদের কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে, নিজেদের প্রমাণ করেছে। এই ডাটাবেজ তাদের যোগ্যতা ও সক্ষমতার একটি উদাহরণ।’
বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘শিল্প পুলিশ, নৌ পুলিশ তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশ পুলিশে ৫০ হাজার সদস্য বৃদ্ধি করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।’
সাইবার ক্রাইম বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেভাবে সাইবার ক্রাইম বাড়ছে তা বিবেচনা করে সাইবার ইউনিট গঠন করার পরিকল্পনাও রয়েছে। জঙ্গীবাদ দমনে র্যাব-পুলিশ যৌভ উদ্যোগে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, ‘র্যাবের এই ডাটাবজে অপরাধীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। বিশ বছর আগের অপরাধের ধরণ এক নয়। তাই আমরাও প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ার চেষ্টা করছি।’
র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যমান আইন ব্যবহার করে এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফলতা অর্জন করেছে।’
ডাটাবেজের সুফল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কলকাতায় জেএমবির জঙ্গী সাজিদের সঠিক পরিচয় এই ডাটাবেজের মাধ্যমে র্যাব নিশ্চিত হয়েছে।’
এই ডাটাবেজ একটি চলমান প্রক্রিয়া বলেও তিনি আরও বলেন, ‘শুধু জাতীয় পরিচয়পত্রই নয়, মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ভবিষ্যতে বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ডিজিটাল রেজিস্টেশন সংযোগ স্থাপনের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন আছে।’
এই ডাটাবেজটি ডিজিটাল বা ইন্টারনেটভিত্তিক অপরাধের অপতৎপরতা প্রতিহত করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আইজি প্রিজন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ইফতেখারুল আলমসহ পুলিশ ও র্যাবের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জেইউ/এএইচ





