নারায়নগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত হত্যা মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে কোন রিমান্ড আবেদন না করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
এত বড় একটি ঘটনার প্রধান আসামীর অনুপস্থিতিতে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগপত্র তথা চার্জশীট আগেই দেয়া হয়েছে মর্মে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ নেই এমন অজুহাতে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে রিমান্ড না চাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই।
প্রধান আসামীর অনুপস্থিতিতে শুরু হওয়া বিচারাধীন মামলায় ন্যায় বিচারের স্বার্থে আসামীকে হাতে পাওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না-এমন যু্ক্তিও মানতে নারাজ অনেকেই।
এত বড় হত্যা মামলার আসামী কিভাবে ভারতে পালালেন, তার সাথে আর কারা জড়িত, অর্থের যোগানদাতা কারা-এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যই এই আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের অভাবে অজানা থেকে যেতে পারে যা ন্যায় বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে-এমন যুক্তিও অনেকের।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে তাই অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেনে যখন শুনতে পেলেন যে আসামী নূর হোসেনক জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুলিশ আবেদনই করেননি। এমনই কিছু স্ট্যাটাস টাইমনিউজবিডির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:
বিদ্রোহী সমুদ্র:
ফখরুল-রিজভী-মাসুদ-দেলোয়ারদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হয় ১০,১৫,৫০,১০০ দিনের। পিটিয়ে হাত পা গুড়িয়ে দেয়া হয়। নুর হোসেনরা থাকে জামাই আদরে, রিমান্ড চাওয়া যেন পুলিশের জন্য চরম অভদ্রতা আর ভীষন লজ্জার। পাছে যদি নূর হোসেনরা বড় ভাইদের কথা বলে দেয়, বড় ভাইরা যদি আবার বড় আপুদের কথা বলে দেয়? সত্যি কি বিচিত্র এই হাসিনালীগ! কি বিচিত্র এই বাংলাদেশ!!
মুন্নাফ:
অবশ্য রিমান্ডে নিয়ে কোন উপকার হতো বলে আমি মনে করি না। কারণ রিমান্ডে নিলেও আশানুরুপ কোন ফল পাওয়া যেতো না। তবে এদেশে রিমান্ড প্রদানের বিভিন্ন ইতিহাস বিবেচনা করে তাকে রিমান্ডে নেওয়া উচিৎ ছিলো- বাবা মা হত্যার দ্বায়ে অর্থাৎ মূল আসামীকে পাঁচ দিনের রিমান্ড নেওয়া যায়, আবার হত্যা না করলেও রিমান্ডে নেওয়ার বহু ইতিহাস এ দেশে রয়েছে। তাছাড়া বিরোধী দলীয় রাজনীতি অথবা সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বললে বা করলে তো কোন কথা হবে না, যত দিন রিমান্ডে নিয়ে পারা যায়, এমনকি সেটা অনির্দিষ্টকালের জন্যেও হতে পারে।
যে দেশে সামান্য চুরির দায়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়, শুধু মটর সাইকেল চুরির দায়ে রিমান্ডে নেওয়ার ইতিহাসও রয়েছে, যে দেশে কথার কথা, মাঁছি মারলেও রিমান্ডে নেওয়া হয়, সে দেশে সাত খুনের প্রধান আসামী এবং মূল পরিকল্পনাকারিকে রিমান্ডে নেওয়া হয় না। এমনকি জেল গেটেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না।
সে ভারতে কেন এবং কাদের সহায়তায় পালিয়ে ছিলো সেই দিকটা অন্তত বিবেচনা করতে পারতো।
বুঝলাম না...!!
সাত খুন; হতে পারে সামন্য মাঁছির থেকেও অনেক মূল্যহীন। কিন্তু সাতটা প্রাণ সাতটা পরিবারের কাছে ছিলো অনেক মুল্যবান। যদিও আর ফিরে পাবে না তাদের।

আমিনুল ইসলাম:
নূর হোসেন আলোচিত ৭ মার্ডারের ১ নম্বর আসামি। তাকে রিমান্ডে না নিয়ে জামাই আদরে রাখা হয়েছে কেন?
উত্তরঃ নূর হোসেনের নেতা হলো শামীম ওসমান, রিমান্ডে নিলে সে নেতার সম্পৃক্ততা প্রকাশ করে দেবে।
আর শামীম ওসমানের নেত্রী কে? তা সবাই জানেন। যিনি এই খুনের পর সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- ওসমান পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া ও রক্ষা করা তার দায়িত্ব।
তাহলে এই খুনের হোতা কারা, তাদের শাস্তি হবে?
খুন হওয়া কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের লোক, নূর হোসেন পাক্কা আওয়ামীলীগার, আর তার নেতা শামীম ওসমান লগী- বৈঠার- নৌকার মানুষ।
খুন ও খুনী সবাই চেতনার(!) লোক। সবই চেতনার খেলা।
জয় বাংলা।

সাইয়েদ ইশতিয়াক রেজা:
এই মাল দেখি হাসে? ভাব দেখে মনে হচ্ছে ও আসামী নয়, এস্ট্রনাট!!!! মামলার চার্জশিট হয়ে গেছে এই অজুহাতে ওকে নাকি রিমান্ডে নেয়া হবেনা!!! এই লোকের নাম আমি প্রথম জানি ১৯৯৬ তে। আমার ছোট ভাই তখন একটা বড় কোম্পানিতে চাকুরী করে। অনেক গভীর রাতে আমার ভাই আমাকে টিএন্ডটি ফোনে খুঁজে বের করে। দেখি ও কাঁপছে। নতুন চাকুরী, প্রথম দায়িত্ব, চট্টগ্রামে কোম্পানির দুই ট্রাক মাল নিয়ে যাচ্ছে। পথ থেকে এক ট্রাক হাইজ্যাক করে নেয় একদল সন্ত্রাসী। জানা গেল এরা নুর হোসেনের লোক।
নুর হোসেন তখন স্থানীয় বিএনপি নেতা। মোবাইলের যুগ না। কাউকে পেলামনা। কোম্পানি ছোট ভাইকে চাপ দিচ্ছে। ছোট ভাইয়ের ভরসা আমি। এক বড় বিএনপি নেতাকে ধরলাম। কারণ পুলিশ বলছে নেতারা না বললে নুর হোসেন ট্রাক ছাড়বেনা। অবশেষে সেই বড় বিএনপি নেতার মাধ্যমে রফা হলো। কয়েক লাখ টাকায় ৫০ লাখ টাকার মাল ও ট্রাক ছাড়ানো হলো।
আবার অনেকদিন পর নুর হোসেনের নাম শুনলাম এই সাত খুনের ঘটনায়। তবে এখন সে আওয়ামী লীগ নেতা!!!! সম্পর্ক এক বিশেষ গড ফাদারের সাথে!!!!!
মুকিমুল আহসান:
আস্থার কালো এই পোশাকের কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাত খুনের মামলায় আগেই আসামীর কাঠগড়ায়। সেই বাহিনীর কাছেই সোপর্দ করা হলো নুর হোসেনকে! কি মন্ত্র পাঠ করানো হলো! তিনিও RAB এর বুলেট প্রুফ জ্যাকেট গায়ে চেপে একই কাতারে সামিল হলেন! মন্দ কি!
সে যাই হোক, যদি ময়লার গাড়ি পোড়ানোর মামলায় ২০ দিন রিমান্ড হয়, তবে ৭ টি খুনের মুল হোতা নুর হোসেন একদিনেরও রিমান্ড পাবে না? দেশের আইনগুলো কী এমনই??
কেবি





