মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির রায়ে দণ্ডিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর রায়ের খসড়া ফাঁসের মামলায় তাঁর স্ত্রী ও ছেলেসহ সাতজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম সামসুল আলমের আদালতে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। সকালে মোফাজ্জল হোসেন নামের এক ব্যক্তি আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য হাজির হন। তিনি বিচারকের কাছে সাক্ষীর জবানবন্দি দেন। পরে সাকার ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ বাকি আসামিদের আইনজীবীরা তাঁকে জেরা করেন।

জেরা শেষে বিচারক আগামী ৪ মে এ মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন নির্ধারণ করেন। এ পর্যন্ত এ মামলায় চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেছেন আদালত।

সাত আসামির মধ্যে সাকার স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী, তাঁর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম জামিনে রয়েছেন।

অপরদিকে সাকা চৌধুরীর ম্যানেজার মাহবুবুল আহসান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্মচারী নয়ন আলী ও ফারুক হোসেন কারাগারে আটক আছেন। এ ছাড়া আইনজীবী ফখরুলের সহকারী মেহেদী হাসান পলাতক রয়েছেন

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। তবে রায়ের আগেই সালাউদ্দিনের স্ত্রী, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা রায় ফাঁসের অভিযোগ তোলেন। তাঁরা রায়ের খসড়া কপি সংবাদকর্মীদের দেখান।

রায় ঘোষণার পরের দিন ২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার এ কে এম নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে শাহবাগ থানায় মামলা করেন।

অন্যদিকে একই বছরের ৪ অক্টোবর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মো. শাহজাহান ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এমআইএস