রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকের সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান চলছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরী।
বুধবার দুদক মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব একথা বলেন। এসময় তিনি অনুসন্ধান বন্ধ করে দেয়া কিংবা এখানে গোপনে অভিযোগ নথিজাত করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন।
ফয়জুর রহমান বলেন,ঋণ জালিয়াতি এবং ওই ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ একই সঙ্গে অনুসন্ধান চলছে। বিষয়টি অনেক জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ বিধায় ধীরগতিতে অনুসন্ধানী কার্যক্রম চলেছে। সহজে তথ্য উপাত্ত না পাওয়া গেলে একটু সময় লাগবেই।
জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে বেসিক ব্যাংকের ৬ শাখা থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ মিডিয়ায় প্রকাশ হতে থাকে। তবে ২০১৩ সালের ২০ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে বেসিক ব্যাংকের সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ হবার পর দুদক অনুসন্ধান শুরু করে।
অভিযোগ রয়েছে, এই জালিয়াতির ঘটনায় একাধিকবার অনুসন্ধানী কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। উপপরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে সহকারি পরিচালক মাহবুবুল আলম, আশিকুর রহমান, উপ-সহকারি পরিচালক নাসিরউদ্দিন বেশকিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন। এর আগে উপপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে অনুসন্ধান শুর হয়। পরে তাকে পরিবর্তন করা হয়।
আরও অভিযোগ রয়েছে, বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিযুক্ত চেয়ারম্যান, এমডি এবং পরিচালনা পরিষদের সম্পৃক্ততা মিলেছে। কোনো ধরণের কাগজপত্র ছাড়া ব্যাংকটির নীতি-নির্ধারকরাই বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে ঋণ সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে নাম না প্রকাশের শর্তে দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ঋণ গ্রহীতাদের জমির জাল দলিল বন্ধক রেখে দেয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকা ঋণ। কাগজপত্রের সত্যাসত্য যাচাই না করেই ব্যাংকটির পরিচালনা পরিষদ ঋণ প্রদানের সুপারিশ করেছেন। এমনও প্রমাণ পাওয়া যায়, পরিচালনা পরর্ষদ সদস্যরাই আত্মীয়-স্বজনকে দিয়ে কোম্পানির নাম করে বেসিক ব্যাংক থেকে অর্থ সহায়তা নিয়েছেন। আইবিপি (ইনল্যান্ড বিল পেমেন্ট), পিএডি (পেমেন্ট এগেনস্ট ডকুমেন্ট), এফবিপি (ফরেন বিল পার্চেজ) পিএসসি (প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট) চার ধরণের পদ্ধতিতে বেসিক ব্যাংকের অর্থ লুট করা হয়। এসব ক্ষেত্রে কথিত প্রতিষ্ঠান যেসব ঠিকানা ব্যবহার করেছে কর্মকর্তারা সরেজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব পায়নি।
এমনকি যে ব্যক্তির নাম ব্যবহার করা হয়েছে তাদেরও সনাক্ত করা যায়নি। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বৃহৎ একটি সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিয়েছে এ অর্থ। জড়িতরা রাজনৈতিক দলের হওয়ার কারণেই তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে পারেনি দুদক। ‘উপর মহল’র চাপে কোনো রকম একটি প্রতিবেদন দাখিল করে জমা দিয়ে বিষয়টি চাপা দেয়া হয়েছে।
ঢাকা,একে,২৫ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর





