শাইখ নুরুল ইসলাম ফারুকীর ছেলে আহাম্মেদ রেজা ফারুকী বলেছেন, ‘বাবার ধর্মীয় মতাদর্শের বিরোধী উগ্রবাদীরাই পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে খুন করেছে।’
ফারুকীর পূর্ব রাজাবাজারের নিজ বাসায় বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফারুকীর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পরিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রেজা বলেন, ‘বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পারিবারিক কলহ বা ব্যবসায়িক কারণে বাবা খুন হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমগুলো আমাদের সঙ্গে কথা না বলেই এমন অসত্য সংবাদ প্রচার করছে। আমাদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে কারো বিরোধ নেই কিংবা লেনদেন নিয়ে কারো সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা ছিলেন সুন্নি মতাদর্শের একজন আলেম। তিনি শরীয়ত ও সুফিবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। এ কারণে তাকে এর আগে অনেকবারই হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তারপরও তিনি সবসময় সত্যের পক্ষে কথা বলেছেন। যার ফলে তার মতাদর্শের বিরোধী ধর্মীয় উগ্রবাদীরাই তাকে হত্যা করেছে।’
এই হত্যাকাণ্ডে ডাকাতির মামলা করা হয়েছে কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে রেজা বলেন, ‘তখন মামলার ব্যাপারে আমরা কিছুই জানতাম না। আমার ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে পুলিশ নিজ দায়িত্বে মামলা করেছে।’
এই মামলাটিতে দণ্ডবিধি ৩০২ ও ৩৪ ধারা সংযুক্ত করে তদন্ত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দাবি জানিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তিনি।
মামলায় গ্রেফতার তিনজনের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ওই নারীকে আমরা টিভিতে দেখে চিনেছি, সে আমাদের বাসায় এসেছিল। কিন্তু বাকি ২ জনের ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না।’
এ সময় রেজা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
এদিকে মামলার তেমন কোনো অগ্রগতি না হলেও তিনি বলেন, ‘এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। একটু সময় তো লাগবেই। তবে গোয়েন্দা সংস্থা সব সময়ই আমাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য নিচ্ছে। আশা করি, প্রতিটি বিষয় তদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে সরকার তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে।’
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ফারুকীর দুই স্ত্রী আয়েশা বেগম ও লুবনা ফারুকী, ছোট ভাই মো. আব্দুর রউফ, ছেলে মো. মাসুদ বিন নূর, ফয়সাল ফারুকী, ফুয়াদ ফারুকী, মেয়ে হুমায়রা তাবাসসুম তুবা ও লাবিবা হুসনা লুবা।
ঢাকা,৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম,এসএইচ





