সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

অভিযোগপত্র গ্রহণকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকা ও হবিগঞ্জ শহরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সঙ্গে ছাত্রদল-যুবদলের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

আজ রোববার দুপুর ১টায় হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক আদালতের বিচারক রশিদ আহমেদ এই মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

এর আগে ১৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারমেহেরুননেছা পারুল নতুন ১১ জনসহ ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ এর বিচারক রোকায়া বেগমের আদালতে তৃতীয় দফার সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন।

পরবর্তীকালে ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার দুই আসামি আরিফুল হক চৌধুরী ওজিকে গউসের নাম ঠিকানা সংশোধন পূর্বক ২১ ডিসেম্বর চতুর্থ দফা সম্পূরকচার্জশিটের নির্দেশ দেন আদালত।

এর আগে গত ১২ নভেম্বর এই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ও সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হকসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে সিআইডি সম্পূরক প্রতিবেদন দাখিল করে।

আগামী ৮ই জানুয়ারি মামলার শুনানীর পরবর্তী দিন ধার্য করেছে আদালত।

এদিকে, আদালতে চার্জশিট গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মিছিল করে আওয়ামী লীগ।

অপরদিকে, বিএনপি ওই চার্জশিটকে ভূয়া আখ্যায়িত করে শহরে আরো একটি মিছিল বের করে।একপর্যায়ে শহরের প্রধান সড়কের কোর্ট মসজিদের সামনে দু’পক্ষ মুখোমুখি হলেতাদের মধ্যে ধাওয়-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে যুবদলের এক কর্মী আহত হয়।তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার পর থেকে শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কায় শহরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজার এলাকায় একটিজনসেভা শেষে ফেরার পথে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়াশাহ এএমএস কিবরিয়াসহ পাঁচজন।

এসএইচ, কেবি