মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে যেকোন দিন রায় ঘোষণা করবেন বলে মামলার কায্যক্রম (সিএভি) করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্র ও আসামী উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে এই আদেশ দেন।
আজ রাষ্ট্রপক্ষে আজহারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুক্তি উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। এসময় চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।
মামলার কায্যক্রম যুক্তি উপস্থাপন শেষে আজ মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষামাণ (সিএভি) রাখেন। এটিএম আজহারুল ইসলামের মামলা নিয়ে উভয় ট্রাইব্যুনাল মিলে ৬টি মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষামাণ রইলো।
আজ আদালতে আজহারুল ইসলামের আইনজীবী তাজুল ইসলাম ও আব্দুস সোবহান তরফদার, শিশির মুহাম্মদ মনির উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর আজহারের পক্ষে যুক্তি উপস্থান শেষ করেন তার আইনজীবীরা।
আজহারের আইনজীবী শিশির মুহম্মদ মনির বলেন, এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে যে ছয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে তার একটিও প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে রুপকথার গল্প সাজানো হয়েছে।
যদি ঠিকভাবে বিচার করা হয় তাহলে তিনি বেকসুর খালাস পাবেন বলেও জানান তিনি।
গত ১৮ আগস্ট থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত ৬ কার্যদিবসে আজহারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুম, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও তাপস কান্তি বল।
এই মামলায় ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর সাক্ষীগ্রহণ শুরু হয়। আজহারের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এম ইদ্রিস আলীসহ রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউশনের ১৯ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি পেশ করেছেন। তাদের মধ্যে সপ্তম সাক্ষী আমিনুল ইসলামকে বৈরি ঘোষণা করেছে প্রসিকিউশন। আজহারের পক্ষে একমাত্র সাফাই সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি পেশ করেন আনোয়ারুল হক।
২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর আজহারুলের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটির একেএম সাইফুল ইসলাম। তার আগে ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, নির্যাতন, আটক, অপহরণ, গুরুতর জখম ও অগ্নিসংযোগের ৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট ও ৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর একেএম সাইফুলইসলাম। অন্যদিকে ২৪ সেপ্টেম্বর ও ১০ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের বিপক্ষে শুনানি করেন আজহারের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মুনির ও ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকী।
একই বছরের ২৫ জুলাই এটিএম আজহারুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ১৮ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি দাখিল করেন প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর নুরজাহান বেগম মুক্তা।
৪টি ভলিউমে ৩শ’ পৃষ্ঠায় দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে আজহারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে ৯ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়।
এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা এস এম ইদ্রিস আলী ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু করে গত বছরের ৪ জুলাই পর্যন্ত মোট ১ বছর ৩ মাস ১১ দিনে তদন্ত শেষ করেন।
মানবতাবিরোধী ৯ ধরনের অপরাধে তদন্ত চূড়ান্ত করে ৯ জুলাই প্রসিকিউশনের কাছে তদন্ত রিপোর্টটি দাখিল করেন তদন্ত সংস্থা। এর ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউশন।
২০১২ সালের ২২ আগস্ট মগবাজারের বাসা থেকে ট্রাইব্যুনাল-১ এর নির্দেশে এটিএম আজহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
ঢাকা, কেএ, ১৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর, কেএইচ





