জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলের রায় ঘোষণা করা হবে আজ। বহুল আলোচিত এ মামলার চূড়ান্ত রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি মানুষ।

সবার সামনে এখন একটাই প্রশ্ন- সাঈদীর মৃত্যদণ্ড বহাল, যাবজ্জীবন, মেয়াদভিত্তিক দণ্ড নাকি খালাস? আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা সাঈদীর ভাগ্যে কী আছে, কালই তা জানা যাবে। আর এটি হবে মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো মামলায় দ্বিতীয় আপিলের রায়।

বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় এ নেতার বিরুদ্ধে রায় রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে মাওলানা সাঈদী একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বক্তা। তিনি দেশ-বিদেশে জনপ্রিয় হওয়ায় সবার দৃষ্টিতে রয়েছে এ রায়।

১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এবং ২ এ যে কয়টি মামলা হয়েছে এখন পর্যন্ত তারমধ্যে নানা কারণে আলোচিত এবং ঘটনাবহুল ছিল মাওলানা সাঈদীর মামলা।

এই মামলার শুরুতেই প্রশ্ন ওঠে ট্রাইব্যুনালের পদত্যাগী চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নিরপেক্ষতা নিয়ে। এরপর সর্বশেষ স্কাইপে কেলেঙ্কারি এবং ট্রাইব্যুনালের সামনে থেকে মাওলানা সাঈদীর পক্ষের একজন হিন্দু সাক্ষী অপহরণের ঘটনা, রাষ্ট্রপক্ষের হিন্দু সাক্ষী গণেশ চন্দ্র মাওলানা সাঈদীর পক্ষে এসে সাক্ষ্য দেয়ার ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিদেশি গণমাধ্যমেও স্থান পায় স্কাইপে কেলেঙ্কারি এবং সাক্ষী অপহরণের ঘটনা।

স্কাইপে কেলেঙ্কারির কারণে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারাম্যান বিচারপতি নিজামুল হককে। মাওলানা সাঈদীর মামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিচারপতি নিজামুল হক থাকলেও তিনি এ মামলার রায় ঘোষণা করে যেতে পারেন নি। স্কাইপে কেলেঙ্কারির জের ধরে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন এবং ট্রাইব্যুনালে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় এটিএম ফজলে কবিরকে। নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের কারণে মাওলানা সাঈদীর বিচার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও নতুন করে শুরু করতে হয় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন।

এছাড়া বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনালের আরেক সদস্য বিচারক জহির আহমেদ পদত্যাগ করেন। তাকে সরকারের চাপে পদত্যাগ করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিচারক জহির আহমেদ পদত্যাগের পর নতুন নিয়োগ পান জাহাঙ্গীর হোসেন। এসব কারণে ট্রাইব্যুনালে প্রথম মামলা হওয়া সত্ত্বেও মাওলানা সাঈদীর মামলার রায় ঘোষণার পূর্বে ট্রাইব্যুনাল-২ এ অন্য দুটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ছাড়া আসামিপক্ষ কর্তৃক সেফ হাউজের ডকুমেন্ট উদ্ধারও এ মামলার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ছিল। ১৫ জন সাক্ষীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির না করে তাদের জবানবন্দী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার ঘটনাও বেশ সমালোচনার জন্ম দেয়।

এ রায়ের দিকে মানুষের যেমন রয়েছে উৎসুক দৃষ্টি তেমনি রয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও। প্রায় এক বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের ফলাফল জানতে সবাই যেমন দৃষ্টি রাখবে সুপ্রিম কোর্টের দিকে, তেমনি রায়-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও উৎকণ্ঠা রয়েছে সবার মনে। কারণ, অতীতে ট্রাইব্যুনালের ও সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায়ের মধ্যে সবগুলোতেই কম-বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। বিশেষ করে গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে দেশজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। সপ্তাহব্যাপী চলা সেই সংঘাতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। সাঈদীর আপিলের রায়কে সামনে রেখে সরকারও সতর্ক রয়েছে। অপরদিকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও রয়েছে তৎপর। এখন শুধু অপেক্ষার পালা কী আসে মাওলানা সাঈদীর আপিলের চূড়ান্ত রায়ে।

সূত্র: শীর্ষ নিউজ

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ