রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘জাহাজ বিল্ডিং’ নামে পরিচিত তাজ মঞ্জিলে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত ৯ জঙ্গির মধ্যে সাতজনের স্বজনের ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহ করেছে পুলিশ। আর নিহতদের লাশ প্রায় এক মাস ধরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গের মরচুয়ারিতে পড়ে রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা পুলিশ দাবি করছে, নিহতদের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে স্বজনদের ডিএনএ প্রোফাইল মিলিয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। যদি উভয়ের ডিএনএ নমুনা মিলে যায় তাহলে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

কল্যাণপুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে ইতিমধ্যে যথেষ্ট অগ্রগতি আছে বলে দাবি করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে কল্যাণপুরের মেসে নিহত জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রক ও গুলশান হামলার ঘটনার মাস্টারমাইন্ড সেই তামিম চৌধুরী ও মারজানকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। ওই জঙ্গিদের ঘনিষ্ঠ ও বর্তমানে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামরিক কমান্ডার মেজর জিয়াও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। যদিও জিয়া ও তামিমকে ধরতে পুলিশ ইতিমধ্যে ৪০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গিদের মধ্যে সাতজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

গত ২৬ জুলাই ভোরে কল্যাণপুরে ‘জাহাজ বিল্ডিং’ নামে পরিচিত তাজ মঞ্জিলে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত হয়। এ ঘটনায় গত ১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বজলার রহমান। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে আটজনের লাশ শনাক্ত করে তাদের নাম-পরিচয় জানা গেছে।

তারা হলো দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানাধীন বল্লভপুরের সোহরাব আলীর ছেলে আবদুল্লাহ, টাঙ্গাইলের মধুপুরের নূরুল ইসলামের ছেলে আবু হাকিম নাইম, ঢাকার ধানমণ্ডির রবিউল হকের ছেলে

তাজ-উল-হক রাশিক, সাতক্ষীরার তালা থানাধীন ওমরপুরের নাসির উদ্দিন সরদারের ছেলে মতিয়ার রহমান, ঢাকার গুলশানের সাইফুজ্জামান খানের ছেলে আকিফুজ্জামান খান, বারিধারা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা তৌহিদ রউফের ছেলে সাজাদ রউফ অর্ক, নোয়াখালীর সুধারাম থানাধীন মাইজদী এলাকার আবদুল কাইয়ুমের ছেলে জোবায়ের হোসেন, রংপুরের পীরগাছা থানাধীন পুরশুরা এলাকার শাহজাহান

কবিরের ছেলে রায়হান কবির ওরফে তারেক ওরফে ফারুক। তবে ৯ জনের মধ্যে অন্য একজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি। মর্গে তার লাশ থাকলেও এখন পর্যন্ত স্বজনদের কেউ খোঁজে আসেনি বলে জানা গেছে।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এক কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া আটজনের মধ্যে রায়হান কবির ওরফে তারেক ছাড়া বাকিদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে তাদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা চলছে। এসব নমুনা নিহত জঙ্গিদের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। পরে স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে জাহাজ বিল্ডিং নামে পরিচিত কল্যাণপুরের সেই তাজ মঞ্জিল গতকালও সিলগালা করা অবস্থায় ছিল বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তের প্রয়োজনেই বাড়িটি সিলগালা করে রাখা হয়েছে। তবে বাড়িটির ভাড়াটিয়ারা ইতিমধ্যে অন্যত্র চলে গেছে।

এমবিএইচ