একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের ফোরকান মল্লিকের রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। এরই মধ্যে ফোরকান মল্লিককে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের এই দিন ধার্য্য করে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ রয়েছে তখনকার এই মুসলিম লীগ কর্মীর বিরুদ্ধে।
গত ২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর পর এটি হবে ২০তম রায়।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফোরকান মল্লিকের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করে।
একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের দায়ে ২০০৯ সালে ২১ জুলাই ফোরকানের বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ থানায় আবদুল হামিদ নামে এক ব্যক্তি মামলা করেন। এরপর পটুয়াখালীর গোয়েন্দা পুলিশ ২০১৪ সালের ২৫ জুন ফোরকানকে বরিশালের রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করে।
এরপর ৩ জুলাই ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার গ্রেফতার দেখিয়ে ফোরকান মল্লিককে কারাগারে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত করেন প্রসিকিউশনের তদন্ত কর্মকর্তা সত্যরঞ্জণ রায়।
গত ২ ডিসেম্বর ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। মুক্তিযুদ্ধের সময় আটজনকে হত্যা ও গণহত্যা, ৪ জনকে ধর্ষণ, ৩ জনকে ধর্মান্তরে বাধ্য করা, ১৩টি পরিবারকে দেশান্তরে বাধ্য করা, ৬৪টি বসতবাড়ি ও দোকানে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মোট পাঁচটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় তাকে।
প্রসিকিউশনের প্রারম্ভিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ১৯ জানুয়ারি শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। প্রসিকিউশনের পক্ষে এ মামলায় মোট ১৪ জন সাক্ষ্য দেন। অন্যদিকে ফোরকান মল্লিকের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন চারজন।
এআর





