মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সদ্য গ্রেফতার হওয়া ফোরকান মল্লিককের বিষয়ে প্রসিকিউশনের এক আবেদনে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর নাম না লিখে ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলীর নাম লেখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হসানের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল পটুয়াখালীর রাজাকার ফোরকান মল্লিকের মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করে প্রসিকিউটর মো:মোখলেসুর রহমান বাদলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তখন ট্রাইব্যুনাল মামলা সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন,‘চিফ প্রকিউটর গোলাম আরিফ টিপু কি মারা গেছেন? নাকি তিনি অফিসের বাইরে (আউট অব অফিস)। যদি কখনো এ ধরনের হয় তাহলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে সংশোধনের আদেশ দিব।’
আসামি মো. ফোরকান মোল্লিককে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের শ্যোন অ্যারেষ্ট দেখানো সংক্রান্ত আবেদন করেন প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল। আবেদনে তিনি আসামি ফোরকান মল্লিক বনাম চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু না লিখে ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলীর নাম লিখেন মামলায়। বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নজরে এলে ট্রাইব্যুনাল এতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ট্রাইব্যুনাল বলেন, চিফ প্রসিকিউটর কি অফিসে আসেন না। নাকি তিনি (চিফ প্রসিকিউটর) মারা গেছেন, নাকি তিনি আউট অব অফিস। আইনে কি আছে দেখুন।
ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী প্রসিকিউটর বাদলকে তার আবেদন সংশোধনের নির্দেশ দিয়ে আসামি ফোরকানকে আগামী ৩ জুলাই ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে আদেশ দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন বলেন, ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী আসামি বনাম চিফ প্রসিকিউটরের কথা বলা আছে। সেখানে ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর বলে কিছু উল্লেখ নাই। তাই ট্রাইব্যুনাল ওই আবেদন সংশোধন করতে বলেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুন মো. ফোরকান মোল্লিককে বরিশালের রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। এর পর থেকে তিনি পটুয়াখালী জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের দায়ে ২০০৯ সালের ২১ জুলাই ফোরকানের বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ থানায় আবদুল হামিদ নামে এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করার পরে ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ঢাকা, কেএ, ৩০ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ





