দুর্নীতি মামলা পরিচালনাকারী বিচারকের প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনাস্থা প্রকাশের পর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় আদালত শুনানি গ্রহণে সময়ের আবেদন মঞ্জুর করলেও সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবির আবেদন নামঞ্জুর করায় এই অনাস্থা ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।

তার দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া তার পক্ষে এই অনাস্থা ঘোষণা করেন। তারা এ-সংক্রান্ত আবেদন নিয়ে হাইকোর্টে যাওয়ারও ঘোষণা দেন। পরে বিষয়টি আমলে নিয়ে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ, আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু আহমেদ জমাদার।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হরতাল চলাকালে খালেদা জিয়া এই মামলার শুনানিতে ‍হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। এছাড়াও সাক্ষ্য গ্রহণ মুলতবির আবেদনও করেন তার আইনজীবীরা। এর মধ্যে একটি আবেদন নামঞ্জুর করে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন আদালত। 

রাজধানীর বকশীবাজার এলাকায় আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অবস্থিত ঢাকার বিশেষ জজ-৩-এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদ্দারের আদালতে বৃহস্পতিবার সকালে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

উল্লেখ্য, অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

২০০৯ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার প্রাক্তন সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রাক্তন সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার প্রাক্তন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার প্রাক্তন মেয়র হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। মামলায় হারিছ চৌধুরী শুরু থেকেই পলাতক।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। গত বছরের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে মামলা দুটিতে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৎকালীন বিশেষ জজ-৩-এর বিচারক বাসুদেব রায়।

জেএ