গুলিস্তানে ঢাকা ট্রেড সেন্টার এবং বঙ্গবাজার হকাস্ মার্কেটে অবৈধভাবে দোকান বরাদ্দ এবং জালিয়াতির অভিযোগ থেকে দায় মুক্তি পেলেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।


একই সঙ্গে ডিসিসির জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ আমলে না নিয়ে নথি ভুক্তির মাধ্যমে তাদেরকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।


জানা যায়, ডিসিসির ওই জালিয়াতি চক্রকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে; ঢাকা ট্রেড সেন্টার এবং বঙ্গবাজার হকাস্ মার্কেটে কয়েক শত দোকান বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয়ে তৎকালীন একাধিক মন্ত্রী, এমপি এবং মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সই-স্বাক্ষর জালিয়াতি।

একই সঙ্গে তাদের গৃহিত সিদ্ধান্ত ,সুপারিশের নোট ও মার্টেটের সার্ভের নকশা জালিয়াতি ও পরিবর্তন করে ইচ্ছে মতো অবৈধভাবে দোকান বরাদ্দ দেয়ার।


ডিসিসির ওই জালিয়াতি চক্র কতিপয় কর্মকর্তা- কর্মচারী এবং বহিরাগত দালালরা অবৈধভাবে দোকান বরাদ্দের মাধ্যমে কয়েক শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে দুদকে।

তারা (ওই চক্রটি) গাড়ী পার্কিং, লিফট, টয়লেট এবং মার্কেটের ফাঁকা জায়গা ও ছাদের উপরে জালিয়াতির, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অস্থায়ী দোকান বরাদ্দ দিয়েছে।
জানা যায়, গত ২০১৩ সালে ১৮ মার্চ উল্লেখিত অভিযোগটি দুদকে জমা হয়। পরে ওইসব অভিযোগ দুদকের যাচাই বাছাই করেন কমিটির সদস্যরা।


ডিসিসির প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি তদন্ত ও অনুসন্ধানী টিমের প্রধান উপ পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সোবহান চলতি ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দুদকের কমিশনের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করেন।


কিন্তু কমিশন গত ২৪ মার্চ বিশেষ ক্ষমতাবলে ডিসিসির চিহ্নিত জালিয়াত ও দুর্নীতি পরায়ন চক্রকে অভিযোগ থেকে দায় মুক্তি দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে।


এদিকে নাম না প্রকাশের শর্তে ডিসিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান,কমিশনের এ পদক্ষেপের ফলে ডিসিসির সাবেক ও বর্তমান দুর্নীতি পরায়ন এবং জালিয়াত চক্র আরো অপকর্ম করার বৈধতা পাচ্ছেন।


শুধু তাই নয়, ডিসিসির সাবেক ও বর্তমান দুর্নীতি পরায়ন, কোটিপতি ও অবৈধ সম্পদের মালিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একের পর এক মারাত্বক দুর্নীতির অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পাচ্ছন। দুদকের এ উদারতার ফলে ডিসিসির দুর্নীতি বাজরা বেশ ফুরফরে মেজাজে আছেন।


আরো জানা যায়, ২০১৩ সালে ২৪ আগস্ট ঢাকা ট্রেড সেন্টার মার্কেটের ১ম,২য় ,৩য় ও ৪র্থ তলায় খালি জায়গা, গাড়ি পাকিংইয়ের জায়গায় ১৫ টাকা বর্র্গফুট মূল্য নির্ধারণ করে ৫২৫টি অস্থায়ী দোকান বরাদ্দের অভিযোগে ৮ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের হয়।


দুদকের উপ পরিচালক মুহা. মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে দন্ডবিধি ৪২০/ ৪৬৬/ ৪৬৮/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধরায় মামলাটি দায়ের করেন। মামরা নং-৩১।
আর ওই মামলার ৮ আসামির মধ্যে রয়েছেন' ডিসিসি’র সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, সাবেক প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মো. মশিয়ার রহমান এবং কানুনগো মোহাম্মদ আলী, সার্ভেয়ার মোতালেব হোসেন, সার্ভেয়ার মো. ফারুক হোসেন, সার্ভেয়ার মো. বাচ্চু মিয়া, সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. সাহাবুদ্দিন সাবু, সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মহসিন উদ্দিন মোড়ল।


বর্তমানে এ মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে দুদকের সহকারি পরিচালক শেখ আবদুস সালাম।

একে