ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র শেখ মাহাতাব আলী মেথুকে বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেছে হাই কোর্ট।
মেথুর এক রিটের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেয়।
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোখলেসুর রহমান।
মেথুকে সাময়িক বরখাস্তের ওই আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছে আদালত।
স্থানীয় সরকার সচিব, বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষরকারী উপ-সচিব, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও ফরিদপুর পৌরসভাকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মেথুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
ওই চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে ফরিদপুর পৌরসভার কাউন্সিলরদের অনাস্থার ভিত্তিতে পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে। মেয়র শেখ মাহাতাব আলী মেথুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগে গত ২৮ অক্টোবর পৌর কাউন্সিলররা একযোগে সরকারের কাছে মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানায়।
ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মেথু বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বদলের লোক হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তবে কয়েক মাস ধরে মন্ত্রীর ভাইয়ের সঙ্গে তার বিরোধের খবর গণমাধ্যমে এসেছে।
পৌর এলাকার উন্নয়নের কাজ নিজের লোকদের পাইয়ে দেওয়া, পৌরবাসীর মতামতের গুরুত্ব না দিয়ে পৌরকর বাড়ানো, পৌরসভা এলাকায় কয়েকটি বিপণি বিতান নির্মাণে দুর্নীতি ও ২৪টি দোকান বরাদ্দে অনিয়ম, সরকারের পাওনা ১ কোটি ৭০ লাখ ৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ, পৌরসভা পরিচালিত স্কুলে নিজের আত্মীয় নিয়োগ দেওয়া, পৌরসভার হাট-বাজার ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়ম, গরুর হাট ইজারার টাকা নিজের তহবিলে নেওয়া, বিভিন্ন খাতে বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যয় বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জেআই





