বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় আদালতে হাজির হতে সময় আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১০ এপ্রিল হাজিরার নতুন দিন ধার্য করেছে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন টিপু শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।মামলাটিতে এদিন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর আদালতে হাজিরার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন তার স্বাক্ষরিত ওকালতনামা আদালতে উপস্থাপন করে আইনজীবীরা তার উপস্থিতির জন্য সময় আবেদন করেন।

আবেদনে অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, তিনি মামলা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। কিন্তু শাররীক অসুস্থতার জন্য তিনি আদালতে আসতে পারেননি। বিশেষ জজ আদালতে তিনি শাররীক অসুস্থার জন্য যেতে পারছেন না। তাই একটি সময় দিলে তিনি সুস্থ থাকলে পরবর্তী তারিখে আদালতে হাজির হবেন।

অন্যদিকে মামলাটির বাদী অ্যাডভোকেট ড. মোমতাজউদ্দিন আহমদ মেহেদী সাবেক এ বিরোধী দলীয় নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।

ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন টিপু শুনানি শেষে সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং বাদীর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন নথিভুক্ত রাখার নির্দেশ দেন।

এর আগে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে করার অভিযোগে গত ২৫ জানুয়ারী আদালতে মামলাটি দায়ের হলে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশেদ তালুকদার শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সমন জারীর আদেশ দেন।

মামলায় দন্ডবিধির ১২৪ (ক) ধারার রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের পাশাপাশি ১২৩ (ক) ধারায় বাংলাদেশ সৃষ্টির নিন্দা ও তার সার্বভৌমত্ব বিলোপে সমর্থন করার এবং ৫০৫ ধারায় জনগণের অনিষ্ট সাধন সহায়ক বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। আদালত ৩টি ধারায়ই অভিযোগ আমলে নিয়ে সমন জারির ওই আদেশ দেন।

মামলায় বলা হয়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিশন বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, তিনি তো (বঙ্গবন্ধু) বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি, তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। শহীদ প্রেসিসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

‘আজকে বলা হয়, এতো (৩০ লাখ) শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও তো অনেক বিতর্ক আছে।’ উক্ত বক্তব্য পরদিন দৈনিক আমাদের সময়সহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক প্রত্রিকায় সবিস্তারে প্রকাশিত হয়। খালেদা জিয়ার উক্ত বক্তব্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল ঘোষণা পত্রে পরিপস্থিই নয় দেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে বর্তমান সরকারের প্রতি ঘৃণার সঞ্চার করেছেন।

যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ। গত ১৭ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। আবেদন অনুযায়ী গত ২১ জানুয়ারি মামলার অনুমতি প্রদান করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এআই