নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায় একজন ম্যাজিস্ট্রেটসহ আরও ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৮ মার্চ পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে দশটা থেকে দুপুর সোয়া দুইটা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম মহিউদ্দিন। তার আদালতে সাত খুনের মামলায় ৭ জন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও ৩ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছিলেন। সাক্ষ্য দেওয়া অপর ৬ জন হলেন- পুলিশের এসআই বেলায়েত হোসেন, মিজানুর রহমান, কনস্টেবল রমজান হোসেন, প্রত্যক্ষদর্শী ফখরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর ও আবুল কালাম আজাদ।
গ্রেফতারকৃত ২৩ আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে ২১ জন ও পলাতক ১২ আসামির আইনজীবীরা ওই ৭ জন সাক্ষীকে জেরা করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত রাখতে ষষ্ঠবারের মতো আবেদন করেন বাকি দু’জন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ও চাকরিচ্যুত র্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদ।
আগামী ২৮ মার্চ এ আবেদনেরও শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সোমবার ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। তারেক সাঈদ ও নূর হোসেনের পক্ষে সময়ের আবেদন জানানো হয়। পরে আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ও আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আগামী ২৮ মার্চ।
তারেক সাঈদ ও নূর হোসেনের আইনজীবীরা তাদের আবেদনের শুনানিতে বলেন, ৭ খুন মামলা বাতিল ও অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটের নিস্পত্তি এখনও হয় নাই। তাই এখন এ দু’জনের (তারেক সাঈদ ও নূর হোসেন) পক্ষে জেরা করা যাচ্ছে না, সময়ের প্রয়োজন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান অভিযোগ করেছেন, পিপি সাক্ষীদের তৈরি করা না এনে হঠাৎ করে নিয়ে আসেন। আদালতে শুনানির সময়ে পিপির আচরণে মনে হয় যে, তিনি নূর হোসেনের লোক।
অন্যদিকে পিপি বলছেন, সাখাওয়াত হোসেনের এসব অভিযোগ সত্য না।
দু’টি মামলারই অভিন্ন সাক্ষী রয়েছেন ১২৭ জন করে। এ কারণে উভয় মামলার সাক্ষীদের একই সঙ্গে দুই মামলায় জেরা করা হয়।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় দু’টি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ এপ্রিল কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র্যাবের চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা তারেক সাইদ, আরিফ হোসেন ও এমএম রানাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয় পুলিশ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দু’টি মামলায় ওই ৩৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন আদালত।
ওএফ





