নাসির নগরসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানেপূজামণ্ডপ ও বসতবাড়ীতে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ‘সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি সভা’ ।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ৩০ অক্টোবর রোববার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসির নগরের কিছু এলাকা এবং হবিগঞ্জ জেলার দুটি গ্রামে একদল দুষ্কৃতকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর,দোকানপাট ও মন্দিরে- হামলা, ভাংচুর,লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। যাতে বিপর্যস্ত হয়েছে হিন্দু ধর্মীয় নারী শিশু সহ অনেকে। আমরা এ ঘটনার তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ-বোনদেরভাই প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই।

সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি সভার চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ,কো-চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সুকমোল বড়য়া,কো-চেয়ারম্যান,ড. ফাদার তপন ডি রোজারিও,জেনারেল সেক্রেটারী শরীফ বায়জীদ মাহমুদ এবং ঢাকা মহানগর কমিটির আহবায়ক কর্নেল অব. আশরাফ আলদীন ও সদস্য সচিব মো: আবেদুর রহমান বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশে ধর্মের নাম ব্যবহারকারী জঙ্গিপনার উৎকট ও রক্তাত্ব উত্থান প্রতিহত করে দেশের আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন গেয়েন্দা সংস্থা জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তার মনোভাব ফিরিয়ে এনেছিল। ফলে এ বছরশান্তিপূর্ণ পরিবেশ মহাধুমধামে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয়উৎসব ঈদুল আযহা, হিন্দুদের শারদীয় দূর্গাপূজা ও বৌদ্বদের প্রবারণ পূর্ণিমা বেশ কাছাকাছি সময়ে উদযাপিত হয়। এই পটভূমিতে কালীপূজার পরদিন নাসিরনগরে ঘটে যাওয়া অনাকাংক্ষিত ঘটনা বাংলাদেশে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার এক গভির ষড়যন্ত্রের অংশ বলে আমরা আশংকা করি।

তারা আরো বলেন, আমরা গভির উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, নাসিরনগরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে দেশের আরও কয়েকটি জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বসতবাড়ীতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অন্ধকারে থাকা কোন অপশক্তি কলকাঠী না নাড়লে এসব ঘটার কথা নয়।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির নগরের হামলার ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন যে, হিন্দুদের জায়গাজমি দখলের মতলবে এসব কান্ড ঘটানো হয়েছে। তাঁর মূল্যায়ণ উড়িয়ে দেয়া যায়না বলেও বিবৃতিতে মন্তব্য করেন নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ রাজনীতিবিদদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, নাসির নগরের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্বারের জন্য দোষারোপ ও পাল্টা দোষারপের খেলা শুরু হয়ে গেছে। এতে হামলাকারী প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ এই বিপদের দিনে সবার আগে দরকার হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্তদের পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। তাদের মনে আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনা এবং প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের হাতে সোপর্দ করা।

‘সসস’ নেতৃবৃন্দ বলেন, হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলায় বাধা দিতে গিয়ে প্রতিবেশী মুসলমানদের দুজনের মাথা ফেটেছে। জনাদশেক আহত হয়েছেন। এরাই চিরায়ত বাংলার ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রকৃত প্রতিনিধি। তাদের দেখানো পথে সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ়তর করতে ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে এগিয়ে আসতে সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

জারিফ