যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অর্থ আমৃত্যু কারাদণ্ড’-আপিল বিভাগের এ রায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।
সোমবার দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এ রায় আপিল বিভাগের আগের একটি রায়ের সঙ্গে পরস্পর বিরোধী। এ কারণে এক্ষেত্রে আইনের ব্যাখ্যায় অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। সঠিক বিবেচনায় এ রায় দেয়া হয়নি। তাই বিভ্রান্তি দূর করার জন্য রিভিউ আবেদন করা হয়েছে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সাভারে সংঘটিত জামান হত্যা মামলায় আপিল বিভাগ এক রায়ে আতাউর রহমান মৃধাসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। এরপর গত ২৪ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।
রায়ে বলা হয়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অর্থ আমৃত্যু কারাদণ্ড। এক্ষেত্রে ৩০ বা ২০ বছর সাজা দেয়া হবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও অসন্তোষজনক।
রায়ে বলা হয়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাজা মওকুফ (রেয়াদ) পাওয়ার কোনো অধিকার নেই। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি অন্য কোনো সুবিধা (রেয়াদ) পাওয়ার দাবি করতে পারে না।
আপিল বিভাগের এ রায়ের বিরুদ্ধে গত রোববার রিভিউ আবেদন দাখিল করার পর সোমবার সংবাদ সম্মেলন করলেন এ আইনজীবী।
সংবাদ সন্মেলনে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, প্রচলিত ফৌজদারি আইন ও কারাবিধি অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অর্থ ৩০ বছর সাজা। এরপর আসামি রেয়াদ পেলে তা এই সময় থেকে বাদ যায়। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫(ক) ধারা অনুযায়ী সাজার মেয়াদ থেকে বিচারিক সময়ের কারাভোগের সময়কাল বাদ দিয়ে গণনা করতে হয়। ফলে সাজার সময়কাল কমে যায়।
তিনি বলেন, এছাড়া বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ ২০১৩ সালে এক রায়ে বলেছেন যে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অর্থ সাড়ে ২২ বছর কারাদণ্ড।
আপিল বিভাগের এ রায় ও আইন বলবৎ থাকাবস্থায় বিচারপতি সুরেন্দ্রকুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ রায় দিয়ে বলেছেন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অর্থ আমৃত্যু কারাদণ্ড। আপিল বিভাগের আগের রায় বাতিল না করেই এ রায় দেয়া হয়েছে। ফলে রায়ের ব্যাখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫(ক) ধারার কার্যকারিতা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির ক্ষেত্রে স্থগিত করা সমীচীন হয়নি। এটা দূর হওয়া প্রয়োজন। এ কারণে রিভিউ আবেদন দাখিল করা হয়েছে।
এএস





