২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা (১৫) ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়। তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ আগস্ট মৃত্যু হয় রিশার। রিশা হত্যা মামলাটির তিন বছরেও শেষ হয়নি বিচার।
রিশা হত্যাকাণ্ডে তার মা তানিয়ে হোসনে বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের শুরুর দিকে ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং কমপ্লেক্সের বৈশাখী টেইলার্সে একটি পোশাক বানাতে দেয় রিশা। ওই টেইলার্সের রশিদে বাসার ঠিকানা ও রিশার মায়ের মোবাইল নম্বর দেওয়া ছিল। সেই রশিদ থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে টেইলার্সের কাটিং মাস্টার ওবায়দুল খান (২৯) রিশাকে ফোনে উত্ত্যক্ত করত। পরে ফোন নম্বরটি বন্ধ করে দিলে ওবায়দুল স্কুলে যাওয়ার পথে রিশাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। তার প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় রিশাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
মেয়ে খুন হওয়ায় তিন বছর পাড়ি দেওয়ার পরে আজও রিশার বাবা-মা কানে ভেসে আসেন তার মেয়ের কণ্ঠের স্বর। রিশা যেন তাদের বাড়ির আঙ্গিনায় তার ছোট ভাই বোন নিয়ে খেলা করছে। চারিদিকে সেই স্মৃতি আজও কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে রিশার বাবা-মাকে।
সুরাইয়া আক্তার রিশা বাবা রমজান হোসেন বলেন বলেন, ‘আমার মেয়ে মারা যাওয়া আজ তিনবছর হয়েছে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে বিচার হবে বলে আশায় বুক বেঁধে আছি। আসামি ওবায়দুল আমার মেয়েটাকে বাঁচতে দিল না। ভেবেছিলাম চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে আমার মেয়ে বাসায় ফিরবে। কিন্তু আর ফিরল না। মেয়ে হত্যার বিচার পাব এ আশায় তিন বছর ধরে আদালতে বারান্দায় ঘুরতেছি। প্রতি ধার্য তারিখে সকাল ৯টার মধ্যে আদালতে চলে যাই। আর বাসায় আসতে ৫ টায় বেজে যায়। শুধু বিচারের আশায় ঘুরতেছি। আর কিছু চাই না। একটাই দাবি, আমি আসামির ফাঁসি চাই।’
এসএম





