রাজধানীর মিরপুর সাইক ইনস্টিটিউটের ছাত্রী ও ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী আফসানা ফেরদৌস হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, আফসানার লাশ উদ্ধারের পর থেকেই ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিষয়টি আপস-মীমাংসা করতে চাপ অব্যাহত রয়েছে। এ থেকেই স্পষ্ট আফসানা আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাই তারা সিআইডিকে দিয়ে ঘটনার পুনঃতদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
১৩ আগস্ট রাতে কাফরুলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আফসানাকে মৃত অবস্থায় ফেলে রেখে যায় দুই তরুণ। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। এরপর থেকেই আফসানার পরিবার দাবি করে আসছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার কথিত বন্ধু তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান রবিন জড়িত।
আফসানার মা স্কুল শিক্ষিকা সৈয়দা ইয়াসমিন গত শুক্রবার বলেন, দেশে কি কোনো আইন-কানুন নেই। আমার মেয়েটা কি মরে গিয়েও বিচার পাবে না? সবাই জানে, আফসানাকে নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অথচ পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের ওপর আমাদের আস্থা নেই। অভিযুক্তদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে ভুল ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তাই এ হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত করতে হবে। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের জন্য আবারও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
নিহতের ভাই ফজলে রাব্বি অভিযোগ করেন, আফসানাকে নির্দয়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটা হত্যাকাণ্ড না হলে এখনও রবিনের পরিবার ও বিভিন্ন মহল থেকে আপস করার জন্য চাপ আসছে কেন? পুলিশ হত্যার তদন্তে অবহেলা ও গাফিলতি করেছে। তাই সঠিক তথ্য উদ্ঘাটন হয়নি। সিআইডিকে দিয়ে পুনঃতদন্ত করা হলেই আফসানা হত্যার রহস্য ও অপরাধীরা বের হবে।
আফসানার মামা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আমাদের হতাশ করেছে। পুলিশ অনৈতিকভাবে একটা হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাই হত্যার সঠিক কারণ জানার জন্য পুনঃতদন্ত জরুরি।
এদিকে, আফসানা হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার চেয়ে আসছে। ১৬ আগস্ট সৈয়দা ইয়াসমিন মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেফতার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন।
এসএ





