বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডি খাজা সোলেমান চৌধুরী ও তার স্ত্রী নওরীন হাবিবসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের আরো মামলায় চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
জানা যায়, বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডিসহ ১৩ জন কর্মকর্তাসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের ১২টি মামলা রয়েছে। আর এ মামলা গুলো ২০১৩ সালে ৩ নভেম্বর মতিঝিল ও রমনা মডেল থানায় দায়ের করা হয়।
সম্প্রতি কমিশনের এক সভায় আসামিদের বিরুদ্ধে ওই ৪ মামলায় ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪ (২) (৩) ধারায় আদালতে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়।
এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি কমিশন বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডি খাজা সোলেমান চৌধুরী ও তার স্ত্রী ওই গ্রুপের চেয়ারম্যান নওরীন হাবিবসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে এক মামলায় চার্জশিট অনুমোদন দেয়।
এ অনুমোদনের ফলে যে কোনো দিন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৪ মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা সহকারি পরিচালক মো. শামসুল আলম এবং উপ পরিচালক তৌফিককুল ইসলাম চার্জশিট দাখিল করতে পারেন।
দুদকের সহকারি পরিচালক মো. শামসুল আলম ৩ মামলায়(মতিঝিল থানা মামলানং-৯,১০ এবং রমনা মডেল থানায় মামলা নং-৭ এর তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন।
অপর দিকেদুদকের উপ পরিচালক তৌফিককুল ইসলাম মতিঝিল থানায় মামলা নং-২ এর চার্জশিট দাখিল করবেন।
জানা যায়, ২০১৩ সালে ৩ নভেম্বর বিসমিল্লাহ গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা কয়েকটি ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদক মতিঝিল থানায় পৃথক ১২টি মামলা দায়ের করে।
ওই ১২ মামলার মধ্যে থেকে ৪ মামলায় ১৬ জনকে আসামি রেখে এবং ৫ জনকে বাদ দিয়ে চার্জশিটের অনুমোদন দুদক।
আর চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামি হলেন; বিসমিল্লাহ গ্রুপের মালিক ও মেসার্স আলফা কম্পোজিট টাওয়াল লিমিটেডের এমডি খাজা সোলেমান চৌধুরী, (প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান) তার স্ত্রী নওরীন হাবিব, তার পিতা (পরিচালক) সফিকুল আনোয়ার চৌধুরী, বিসমিল্লাহ গ্রুপের ডিএমডি আকবর আজিজ মুতাক্কি, জিএম মো. আবুল হোসাইন চৌধুরী, ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, নেটওয়ার্ক ফ্রেইট সিস্টেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন, জেসমিন আক্তার,আবদুল্লাহ আল মামুন, বেগম সরোয়ার জাহান, আতিকুর রহমান এবং রফিকুল আলম।
এছাড়া মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, যমুনা ব্যাংকের ম্যানেজার রফিকুল হাসান, জনতা ব্যাংকের মগবাজার শাখার নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং টি ডব্লিউ এক্সপ্রেসের মালিকমো. মইন উদ্দিন ,নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম মাসুককে।
বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৩ সালে বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ অনুসন্ধান দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ ইকবালের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি বিশেষ টিম।
পরে ওই বছর ৩ নভেম্বর দুদক টিম রাজধানীর ৫৩ জনের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানা ২টি, মতিঝিল থানায় ৯টি এবং নিউমার্কেট থানায় ১টিসহ মোট ১২টি মামলা দায়ের করেন।
এই গ্রুপের এমপড খাজা সোলাইমান নিজেই ক্রেতা, নিজেই বিক্রেতা হয়ে এই অর্থ লোপাট করেছেন। এর মধ্যে ফান্ডেড ৯৯০ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং নন-ফান্ডেড ১৮৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।
দুদকের ১২ মামলায় ৫৩ আসামির মধ্যে ৪০ জন আসামি হলেন; জনতা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা।
বিসমিল্লাহ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে: মেসার্স হিন্দল ওয়ালী টেক্সটাইল মিলস লি.নেটওয়ার্ক ফ্রেইট সিস্টেম লি., বে ইয়ার্ন লি.,বিসমির্লাহ টাওয়েল ইত্যাদি ।
একে





