মানবপাচারের এক মামলার কক্সবাজারের এক শিশুকে আট সপ্তাহের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আজ সোমবার হাইকোর্টে হাজির হয়ে জামিন আবেদনের পর বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহরিুল হকের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এই সময় ওই শিশুর মা উপস্থিত ছিলেন।
তবে ২০১৮ সালে করা এই মামলায় শিশুর বয়স দেখানো হয়েছে ২২ বছর।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জামান আক্তার বুলবুল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘একদম মাইনর ছেলে। সর্বোচ্চ ১২ বছর হবে। আদালত তাকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন।’
শিশুটির আইনজীবী জামান আক্তার বুলবুল বলেন, ঘটনা দেখানো হয়েছে ২০১৪ সালের। আর মামলা করেছে ২০১৮ সালে। কিন্তু এখন শিশুটির বয়স ১২ বছরের মতো।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত বছর রামুর হাজিপাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম (৪১) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নিযাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে একটি পিটিশন মামলা করেন। মামলায় রামুর চাকমারকুল এলাকার ওই শিশুসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়।
ঘটনার সময় দেখানো হয়, ২০১৪ সালের ২০ জুন রাত এবং ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। অভিযোগে বলা হয়, বিনা খরচে মালেয়শিয়ায় ভালো বেতনে কাজ দিবে বলে ২০১৪ সালের ২০ জুন সাগরে ছোট নৌকা দিয়ে জাহাজে তুলে দেন।
কয়েকদিন পরে জাহাজ থেকে থাইল্যান্ডের উপকূলীয় পাহাড়ের জঙ্গলে নামিয়ে দেয়। সেখানে দালালরা মারধর করে মুক্তিপণ দাবি করে। মোবাইল ফোনে স্বজনদের কাছ থেকে ওই শিশুসহ এক ও দুই নম্বর আসামি দুই লাখ টাকা নেন। পরবর্তী সময়ে আরো এক লাখ টাকা নেওয়ার পর মালেয়শিয়া পৌঁছান নুরুল ইসলাম।
২০১৭ সালের জুন মাসে মালয়েশিয়া সরকার অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলে নুরুল ইসলাম আটক হন। এক বছর জেল খাটার পর দেশে ফেরত এসে মামলা করেন।
আইনজীবী জামান আক্তার বুলবুল বলেন, এই মামলা এখন সাক্ষীগ্রহণের পর্যায়ে আছে।
এএইচ





