বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার কাজী শাহাদাত হোসেন এবং তার স্ত্রী জেসমিন জাহান ওরফে নিত্য শাহাদাতের বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণের জন্য আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার আসামি পক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার পাঁচ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জয়োশ্রী সমাদ্দার এ দিন ধার্য করেন। তবে এদিন আদালতে হাজির হননি শাহাদাত এবং তার স্ত্রী জেসমিন জাহান।

গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি ঢাকা সিএমএম আদালত থেকে ঢাকার পাঁচ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

এর আগে গত ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪(২)খ ধারায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুর রহমান ঢাকা সিএমএম আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪(২)খ ধারা অনুযায়ী বিচারে শাহাদাত এবং নিত্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ ১৪ এবং সর্বনিম্ন ৭ বছরের কারাদ- হতে পারে।

মামলাটিতে গত বছরের ৪ অক্টোবর শাহাদাতের স্ত্রী জেসমিন জাহান নিত্যকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।

গত বছরের ৫ অক্টোবর শাহাদাত আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তারও জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। এরপর ৮ অক্টোবর শাহাদাতকে তিন দিনের রিমান্ডেও নেওয়া হয়।

দীর্ঘ দিন কারাভোগের পর গত ১ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ নিত্যের এবং গত ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট শাহাদাতের জামিন মঞ্জুর করলে তারা কারামুক্ত হন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, মিরপুরের ২ নম্বর সেকশনের এইচ ব্লকের ৫ নম্বর রোডে শাহাদাতের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করত হ্যাপি।

গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর সাংবাদিক কলোনির ৩ নম্বর রোডের মাথায় হ্যাপিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন মিরাজ উদ্দীন নামের এক ব্যক্তি।

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে জাতীয় দলের ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন রাজীবের বিরুদ্ধে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাংবাদিক খন্দকার মোজাম্মেল হক মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে শিশুটিকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়। এরপর গত ১৩ সেপ্টেম্বর গৃহপরিচারিকা মাহফুজা আক্তার হ্যাপি (১১) আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি প্রদান করেন।

এমকে