ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে দুদকের পৃথক পাঁচ মামলার কার্যাক্রম দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।
বুধবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেরন নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগের পুর্নাঙ্গ বেঞ্চ দুদকের পক্ষে করা এক আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী সরওয়ার আহমেদ।
জমির উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার আদেশ চেয়ে দুদকের পক্ষে আদালতে শুনানি করেনে অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান ও সরওয়ার আ্হমেদ।
আবেদনের বিরোধিতা করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার নিজেই। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ইদ্রিস খান প্রমুখ।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, এর আগে ২০১৩ সালের ১১ জুন তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের দায়ের করা মামলাগুলোর কার্যরক্রম হাইকোর্টে স্থগিত করে আদেশ দিয়েছিলেন। একই সাথে মামলা দায়েরের বিষয়ে দুদকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে রুল জারি করেছিলেন আদালত।
তিনি বলেন, ওই সময় হাইকোর্ট তার আদেশে আরও বলেন- যত দিন মামলাগুলো হাইকোর্টের শুনানি শেষ না হবে, তত দিন বিচারিক (নিন্ম) আদালতে ওই সকল মামলার সকল কার্যরক্রম স্থগিত থাকবে। হাইকোর্টের স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর দুদক আপিল করে।
এই আবেদনের উপর শুনানি শেষে বুধবার আপিল বিভাগ জমির উদ্দিন সরকারের মামলা নিষ্পত্তির এই আদেশ দেন। আদেশে গত বছর মামলা নিয়ে জারি করা রুল আগামী দুই মাসের মধ্যে হাইকোর্টে নিষ্পত্তি করতে আদেশ দেন।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় সরকারের আমলে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার সংসদের স্পীকার থাকাকালীন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ২৮ ডিসেম্বর দুদক একসঙ্গে পাচঁটি মামলা করে।
তার পরে ২০১২ সালের ৭ নভেম্বর শেরেবাংলানগর থানায় জমিরউদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।
প্রথম অভিযোগ- জমিরউদ্দিন সরকার ২০০৬ সালে চিকিৎসার জন্য ২৭ লাখ ৮৬ হাজার ৩৬৪ টাকার বিল নিজের নামে অনুমোদন করেন এবং ওই অবৈধভাবে অর্থ তুলে নেন।
দ্বিতীয়- বলা হয়, অষ্টম জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়ার পর তখনকার চিফ হুইপ প্রয়াত খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৬ লাখ ৯ হাজার ৬শত ৬২ টাকার সরকারি আসবাব ও অন্যান্য মালামাল ফেরত দেয়া থেকে অব্যাহতি দেন স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকার।
তৃতীয় - চিফ হুইপ খোন্দকার দেলোয়ারের চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ৬ লাখ টাকা অনুমোদন দিয়ে সরকারি অর্থের ক্ষতিসাধন করে নিজেরা লাভবান হয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
চতুর্থ - সাবেক ডেপুটি স্পিকারে আখতার হামিদ সিদ্দিকীর চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ১ লাখ ২১ হাজার সাতশত তিন টাকা দিয়ে সরকারি অর্থের ক্ষতিসাধন করে নিজেরা লাভবান হয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।
পঞ্চম - অভিযোগে বলা হয়েছে, বাড়ির রান্নার চুলার গ্যাস বিল ও ১০ মিটারে বিদ্যুৎ বিল বাবদ চার লাথ ৪০ হাজার ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা, ক্ষমতা না থাকা সত্বেও জমির উদ্দিন সরকার অনুমোদন দিয়ে সরকারী অর্থের ক্ষতিসাধন করে নিজেরা লাভবান হয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রয়াত বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তিনি মারা যাওয়ায় অভিযোগপত্রে মামলার দায় হতে তার অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে।
[b]ঢাকা, কেএ ২৮ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)//এএইচ[/b]
অপরাধ
জমির উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ
ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে দুদকের পৃথক পাঁচ মামলার কার্যাক্রম দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।





