ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন আরো দুইজনকে আটক করেছে পিবিআই।

শনিবার পৃথক অভিযান চালিয়ে রাঙ্গামাটি ও কুমিল্লা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন—ইফতেখার হোসেন রানা ও এমরান হোসেন মামুন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী পিবিআইয়ের ওসি মো. শাহ আলম জানান, বিকেলে রাঙ্গামাটি টিঅ্যান্ডটি এলাকায় অভিযান চালায় পিবিআই। এ সময় একটি বাড়ি থেকে ইফতেখার হোসেন রানাকে আটক করা হয়। আটক ইফতেখার সোনাগাজীর চর গণেশ এলাকায় বাসিন্দা।

একই দিন কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে এমরান হোসেন মামুনকে আটক করেছে বলে পরিবার দাবি করেছে। এমরান হোসেনের মা নেহার বেগম মুঠোফোনে জানান, পিবিআই পরিচয়ে তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ৬ এপ্রিল শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। মাদরাসার এক ছাত্রী সহপাঠী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের তিন তলায় যান। সেখানে মুখোশপরা ৪-৫ জন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। কিন্তু নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে আগুন দেওয়া হয়। পরে ওই দিনই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান নুসরাত।

এ ঘটনায় ৬ এপ্রিল রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

এর আগে ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে আটক করে পুলিশ। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত মামলার এজহারের ৮ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ৫ জন। ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড দেওয়া হয়।

জেড