নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনায় তৃতীয়বারের মতো তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।আইন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মিজানুর রহমান খান মঙ্গলবার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নাজমুল হকের কাছে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে শুধু মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি তাদের তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেছে।
এ ঘটনায় পরবর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও চার সপ্তাহ সময় আবেদন করা হয়েছে বলে জানান উপ-সচিব মিজানুর রহমান খান।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন,‘এ খুন কারা ঘটিয়েছে সে ব্যাপারে আমরা স্পষ্ট ধারণা পেয়েছি। কিন্তু কেন ঘটিয়েছে তা বিস্তারিত জানতে আরও সময় প্রয়োজন। তাই আদালতের কাছে চার সপ্তাহ সময়ের আবেদন জানানো হয়েছে।’
এ ঘটনায় ৩৩৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া র্যাব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলেও জানান মিজানুর রহমান।গত ১৪ মে প্রথম তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।এর আগে গত ৫ মে নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় র্যাবের কোনো সাবেক বা বর্তমান সদস্যের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অ্যাডভোকেট শামিম সরদার আদালতের নজরে আনলে স্বপ্রণোদিত হয়ে বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আইন মন্ত্রণালয়ের দুইজন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুইজন ও জনপ্রসাশন মন্ত্রণালয়ের দুইজনসহ মোট সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় আদালত।
এ ঘটনায় সরকারি কোনো কর্মকর্তা জড়িত আছে কিনা,তার সার্বিক তদন্ত করে আগামী সাত দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে তদন্ত কমিটিকে বলা হয়।আদালত আদেশে আরও বলে,এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় র্যাব কোনো তদন্ত করতে পারবে না। এ ছাড়া ডিবির পাশাপাশি সিআইডিকেও মামলার তদন্ত করতে বলা হয়েছে।
র্যাবের বিরুদ্ধে আসা ছয় কোটি টাকা নিয়ে হত্যাকাণ্ড করাসহ এ ঘটনায় র্যাবের কোনো সদস্যের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা,তা তদন্ত করতে র্যাবের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী শামিম সরদার।একই সঙ্গে এ মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা, কেএ, ৮ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস





