মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে মাওলানা সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে আদালত।

প্রধান বিচারপতি মো: মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে আজ বুধবার সকাল ১০টা ৭ মিনিটে সংক্ষিপ্তভাবে এ রায় দেন।

বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে আলোচিত ১০ নম্বর অভিযোগ বিশাবালী হত্যাকাণ্ডে আমৃত্যু কারাদণ্ড, ১৬ ও ১৯ নম্বর অভিযোগে জাবজ্জীবন, অপর আলোচিত আট নম্বর অভিযোগ ইব্রাহিম কুট্টি হত্যাকাণ্ডে ১২ বছরের সশ্রম কারদণ্ড, সাত নম্বর অভিযোগে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ছয়, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে খালাস দেয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় প্রধান বিচারপতির এজলাসে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৬ এপ্রিল আপিল বিভাগে মাওলানা সাঈদীর আপিল মামলার সব কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখা হয়। তার পাঁচ মাস শেষে আজ চূড়ান্ত রায় দেয়া হলো।

গত বছর ২৮ ফেব্র“য়ারি মাওলানা সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ১৯৭১ সালে হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, নির্যাতন, ধর্ষণ, ধর্মান্তরকরণসহ ২০টি অভিযোগ আনে রাষ্ট্রপক্ষ। এর মধ্যে আটটি অভিযোগে মাওলানা সাঈদীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দু’টি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

মাওলানা সাঈদীর খালাস চেয়ে গত বছর ২৮ মার্চ আপিল বিভাগে আবেদন করে আসামিপক্ষ। যে ছয়টি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে; কিন্তু সাজা উল্লেখ করেনি ট্রাইব্যুনাল, সেগুলোতে সাজা উল্লেখ করার দাবি জানিয়ে একই দিন রাষ্ট্রপক্ষও আপিল আবেদন করে।

ওই বছর ২৪ সেপ্টেম্বর আপিল শুনানি শুরু হয়। সাড়ে ছয় মাসেরও অধিক সময় পর আলোচিত এ মামলায় আপিল শুনানি শেষে রায় অপেক্ষমাণ ঘোষণা করা হয় গত ১৬ এপ্রিল।

মাওলানা সাঈদীর আপিল মামলার শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি মো: মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ গঠন করা হয় তখন।

মাওলানা সাঈদীকে দু’টি হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এ দু’টি অভিযোগ হলো ইব্রাহীম কুট্টি ও বিশাবালী হত্যা।

মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মোট ২০টি অভিযোগে চার্জ গঠন হয়। এর মধ্যে আটটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন ট্রাইব্যুনাল। প্রমাণিত আটটি অভিযোগের দু’টি হত্যার অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির আদেশ দেয়ার কারণে বাকি ছয়টি অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তাতে কোনো শাস্তির কথা উল্লেখ করেননি ট্রাইব্যুনাল। বাকি যে ছয়টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ধর্মান্তরকরণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও অপহরণ।

ঢাকা, কেএ, ১৭ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর