দেশবরেণ্য কবি, সাংবাদিক ও কলামনিস্ট ফরহাদ মজহারকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় সাক্ষী হিসাবে একজনের জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুল হক খুলনা নিবাসী নাজমুস সাদাত ওরফে সাদিকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আবেদন করেন।

এই আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার সিএমএম মো. হাফিজুর রহমান ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশীদ আলমকে দায়িত্ব দেন। তিনি দায়িত্ব পেয়ে সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তার আবেদনে উল্লেখ করেন, সাক্ষীর নাম নাজমুস সাদাত ওরফে সাদি, পিতা-আলিমুল হুদা, সাং-১/১ চৌধুরী পাড়া, মীরের ডাঙ্গা থানা-খানজাহান আলী, জেলা-খুলনা।

সে গত ৩ জুলাই তারিখে ভোর ৫টার সময় খুলনা এলাকায় ফরহাদ মাজহারকে দেখেছে। সে এ বিষয়ে জবানবন্দি দিবে। সেজন্য তার জবানবন্দি সাক্ষী হিসেবে রেকর্ড করার জন্য আবেদন করছি।

সোমবার (০৩ জুলাই) ভোরে শ্যামলীর রিং রোড ১নং হক গার্ডেনের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ফরহাদ মজহার। পরে তিনি স্ত্রীকে মোবাইলে ফোনে জানান, কে বা কারা তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। তাকে মেরেও ফেলা হতে পারে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬ বার ফোন করে ৩৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়ে মোবাইল ট্রাকিং করে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে ১৯ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগরের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে।

এরপর তাকে প্রথমে আদাবর থানা এবং পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নেয়া হয়। পরে তাকে আদালতে নেয়া হলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় ফরহাদ মজহারকে জবানবন্দি শেষে নিজ জিম্মায় যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন আদালত।

ফরহাদ মজহারের নিখোঁজের ঘটনায় সোমবার রাতে স্ত্রী ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে আদাবর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এর আগে তিনি জিডি করেছিলেন।

এমবি