নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনায় র্যাব সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত কমিটিকে তথ্য দিয়েছেন এই বাহিনীর মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান।
সোমবার বেলা আড়াইটা থেকে বিকাল ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সচিবালয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান শাহজাহান আলী মোল্লার কক্ষে র্যাব প্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে এসে মোখলেছুর সাংবাদিকদের বলেন, “বাহিনীর প্রধান হিসাবে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করাই বাঞ্ছনীয়। তারা যা যা জানতে চেয়েছেন সব কিছুই বলেছি। যেটা সত্যি সেটাই বলেছি।”
কোন কোন বিষয়ে কথা বলেছেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, “যেহেতু কমিটি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সেহেতু সব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ, সব বিষয়েই বলেছি।”
তার দাবি, “র্যাবের স্বচ্ছতা আছে। র্যাব যেটা সত্য সেটাই করে। র্যাব আইন, ন্যায় ও সত্যের পথে সব সময় থাকে- এটা আমি বলেছি।”
এর আগে র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে এই কমিটি।
র্যাব প্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শাহজাহান আলী বলেন, “এই হত্যা মামলায় র্যাব সদস্যরা আসামি, তাদের কয়েকজন গ্রেপ্তারও আছেন। তাই সংস্থার প্রধান হিসাবে তিনি (মোখলেছুর) কতোটুকু জানেন সে বিষয়ে আমরা কথা বলেছি।”
ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে- সে বিষয়ে র্যাব মহাপরিচালকের ‘পরামর্শ’ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, “এই হত্যার ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে যেসব খবর এসেছে, সাক্ষীরা যা বলেছেন, আমরা যেসব তথ্য পেয়েছি তার ভিত্তিতে র্যাব প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করেছি।”
সাত খুনের ঘটনা আগে থেকেই র্যাব সদর দপ্তর জানত কি না- এমন প্রশ্নে শাহজাহান বলেন, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ বিষয়ে উল্লেখ করা হবে।
চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের কোনো সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ না জানিয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদ শেষের পথে। শিগগিরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে।”
এ মামলার প্রধান আসামি নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেনকে না পেলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
‘নিখুঁত সত্য’ বের করতে তদন্ত কাজে দেরি হচ্ছে মন্তব্য করে শাহজাহান বলেন, “সময় মতো সবই দেখতে পাবেন, আমরা বসে নেই।”
সাত খুনের ঘটনায় র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে হাই কোর্টের নির্দেশে গত ৭ মে এই তদন্ত কমিটি করে সরকার।
জেআই,





