জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম।

রায় পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের রায়ের ভিত্তিতে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউর কোন সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। বিশেষ আইনে বিচার হচ্ছে, এখানে রিভিউর কোন সুযোগ থাকবে না।

সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জামায়াতের আরেক নেতা কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে তাকে রিভিউ আবেদন করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল-এই তথ্যের উল্লেখ করে কামারুজ্জামানের ক্ষেত্রেও এই অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে কীনা জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কাদের মোল্লার সময়ও আমি এই অনুচ্ছেদ প্রয়োগের বিরোধিতা করেছিলাম।

তিনি বলেন, আমি এখনও আগের মতই এই মত দিচ্ছি যে, কামারুজ্জামানের ব্যাপারেও সংবিধানের রিভিউ সংক্রান্ত ১০৫ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে না।

কিন্তু কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদের আলোকে রিভিউ পিটিশান দায়েরের সুযোগ দেয়া হলে কামারুজ্জামানের বেলায় কেন সেই সুযোগের বিরোধিতা করছেন-সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, রিভিউ ভবিষ্যতেও চলবে এমন কোন কথা আপিল বিভাগ বলেনি।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, যারা স্বাধীনতার চেতনা ধারন করেন, যারা একাত্তরে তাদের স্বজনদের হারিয়েছেন এবং যারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি তারা সবাই এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

জামায়াতের দেয়া হরতাল প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল দেয়া চরম ধৃষ্টতা এবং এটা আদালত অবমাননার শামিল।

তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। এখন যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই এ রায় কার্যকর করা হবে।

মাহবুবে আলম বলেন, আসামীর পক্ষ থেকে অনেক ধরনের আবেদনই আসতে পারে। এর কোনটির ভিত্তি থাকবে, কোনটির থাকবে না। সেটা আইনই ঠিক করে দেবে।

রায় কবে কার্যকর করা হবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বার বার এমন প্রশ্ন করা হলে এটর্নি জেনারেল এক পর্যায়ে বলেন, এটা আমার পক্ষে বলা কঠিন কখন রায় কার্যকর করা হবে।

 

রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, রায়ের কপি জেল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌছালে তখন আসামীকে সুযোগ দিবেন জেল কর্তৃপক্ষ।

 

 

উল্লেখ্য, আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিসুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির বেঞ্চ আজ সোমবার এ রায়দিয়েছেন। বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

কেএ, কেবি