জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি শুরু হলে দুপক্ষের আইনজীবীদের তুমুল হট্টগোলে এজলাস ছেড়ে চলে যান প্রধান বিচারপতি।

বৃহস্পতিবারের পরিবর্তে শুনানির দিন এগিয়ে আনার আবেদন জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। কিন্তু আদালত আগামী বৃহস্পতিবারই দিন ধার্য রাখেন। পরে এ নিয়ে সরকার ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় আদালতে বেশ কিছুক্ষণ হট্টগোল চলে। একপর্যায়ে আদালত বলেন, যদি আপনারা শান্ত না হন তাহলে আমরা এজলাস ত্যাগ করবো।

পরে সিনিয়র আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা শুনানির দিন এগিয়ে আনার দাবিতে অনড় থাকে। এ সময় আবারো হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। নজিরবিহীন এই হট্টগোলে এজলাস ত্যাগ করেন বিচারপতিরা।

জানা যায়, শুনানির শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের বরাত দিয়ে আদালতকে জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাকি আছে, সেগুলো করতে সময় লাগবে। খালেদা জিয়ার মেডিকেল প্রতিবেদন এবং শুনানির জন্য দুই সপ্তাহ সময় প্রার্থনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। আদালত আগামী ১১ ডিসেম্বর মধ্যে মেডিকেল প্রতিবেদন দাখিল এবং শুনানির জন্য ১২ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দেন।

এসময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনসহ অন্যরা আজকের মধ্যেই শুনানি করার দাবি জানান। এসময় দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে চরম উচ্চবাচ্য শুরু হয়। জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ, আগে তার জামিন দেন, প্রয়োজনে শুনানি পরে হোক। তিনি খালেদা জিয়ার অন্তবর্তী জামিন প্রার্থনা করেন। এর বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

তখন আদালত জানান আগামী বৃহস্পতিবার শুনানি হবে। এরপর বিএনপির আইনজীবীরা কোর্টে হট্টগোল শুরু করেন।

কয়েক মিনিট ধরে তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলার পর আপিল বিভাগের প্রধান বিচারপতিসহ ছয় জন বিচারপতি এজলাস ছেড়ে খাস কামরায় চলে যান। এসময় আদালতে উপস্থিত বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা শেইম শেইম বলে চিৎকার করতে থাকেন।

এমএম