মাগুরায় ছাত্রলীগের গোলাগুলিতে মায়ের জঠরে শিশু গুলিবিদ্ধ ও একজন বৃদ্ধ নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলার আসামি পৌর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মেহেদী হাসান ওরফে আজিবর শেখকে (৩৪) গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার বিকাল পাঁচটার দিকে মাগুরার শালিখা উপজেলার সীমাখালী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আজিবর শেখের সঙ্গে মামলার অপর আসামি মুহম্মদ আলীও (৩৫) ছিলেন বলে শোনা যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একটি সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা বিষয়টি নিশ্চিত করে। এদিকে এ নামে কেউ গ্রেফতার নেই বলে দাবি করেন মাগুরার পুলিশ সুপার এ কে এম এহসান উল্লাহ।
আসামি আজিবর শেখের পক্ষে গত ১৪ আগস্ট মাগুরা শহরে পোস্টার লাগানো হয়। পোস্টারের বা পাশে ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়ের ছবি এবং ডান পাশে প্রধানমন্ত্রী সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখরের ছবি। পোস্টারে বড় করে আজিবর শেখের ছবি ছিল।
পোস্টারে আজিবর দাবি করেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান ও মুজিব সৈনিক। ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। কামরুল ভুঁইয়ার গুলিতে নাজমা খাতুন পেটের শিশুসহ গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া রুবেল ও পাভেলের বোমার আঘাতে মমিন ভুঁইয়া নিহত হন। অথচ ওই ঘটনায় নিরীহদের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে। তিনি ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিকদের আহ্বান জানান। পাশাপাশি মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দাবি করেন। পোস্টারটি শহরের মানুষের মাঝে বেশ কৌতূহলের সৃষ্টি করেছিল।
গত ২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় কারিগরপাড়ায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাজমা খাতুন (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন। গুলি তাঁর পেটের শিশুকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে ফেলে। পরে মাগুরা সদর হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গৃহবধূ গুলিবিদ্ধ কন্যাশিশু জন্ম দেন। মা ও শিশু এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সংঘর্ষে পড়ে নাজমার চাচাশ্বশুর মমিন ভূঁইয়া (৬৫) মারা যান।
ওই ঘটনায় গত ২৬ জুলাই নিহত মমিন ভূঁইয়ার ছেলে রুবেল ভূঁইয়া জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সেন সুমনকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মী ও সমর্থক। এ পর্যন্ত মামলার ১০ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কেএইচ





