একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাতায়াতে ইসলামী জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে যুক্তিতে আট নম্বর অভিয়োগের ওপর যুক্তি উপস্থাপন করে আসামীপক্ষ।
বুধবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ যুক্তি গ্রহণ করেন।
প্রধান বিচারপতি ছাড়া অন্য বিচারপতিরা হলেন বিচারপতি এস কে(সুরেন্দ্র কুমার) সিনহা, বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
বুধবার ট্রাইব্যুনালের আট নং অভিযোগ 'ইব্রাহীম কুটিট্টকে হত্যা' বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান। এই নিয়ে সাঈদীর পক্ষে পঞ্চম দিনের যুক্তি দেন তিনি।
এর আগে শাহজাহান সাঈদীর পক্ষে চার দিন যুক্তি দেন।
প্রথম দিন শাহজাহান রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা যে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন তা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন।
দ্বিতীয় দিনে সাঈদীর নাম একাত্তরের কোন বইয়ে রাজাকার হিসাবে নাই এবং তিনি যে পিরোজপুরের একজন কৃতি সন্তান তা প্রমাণের চেষ্টা করেছেন।
তৃতীয় দিনে শাহজাহান সাঈদীর বিরুদ্ধে দেয়া রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তার দেয়া সাক্ষ্যের বৈপরীত্য দেখিয়েছেন।
চতুর্থ দিনে শঅহজাহান ছয় নম্বর সাক্ষী মানিক পসারির করা মামলা ও ট্রাইব্যুনালে দেয়া তার সাক্ষ্যের মধ্যে গরমিল দেখিয়েছেন।
পঞ্চম দিনের যুক্তিতে এসএম শাহজাহান রাষ্ট্রপক্ষের সপ্তম সাক্ষী মফিজ উদ্দিন পসারীর সাক্ষের যুক্তি উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মফিজ উদ্দিন যে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার একটি কথাও তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া সাক্ষে বলেনি।
সকালে মহিষ চড়াতে যাবার কথা, সকাল ১০/১১টার দিকে গরু আতালে নিয়ে আসার কথা, দেলু শিকদার কর্তৃক থাবা দিয়ে ইব্রাহীম কুট্টির চুল ধরে গালি দেয়ার কথা, তাকে ও ইব্রাহীম কুট্টিকে এক দড়িতে বেঁধে রাখা, ইব্রাহীম কুট্টিকে ২/৪টি ঘা গুতা মারা, মা বলে চিৎকার শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখি ইব্রাহীমকে গুলি দিছে এরপর লাথি মেরে লাশ নদীতে ফেলে দেয়া, ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে দানেশ মোল্লা ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয়ার তার ঠোট কেটে যাওয়া এবং দাত ভেঙ্গে যাওয়া, ক্যাম্পে রাজ্জাক রাজাকার কর্তৃক তাকে ভাত খাবা বলে জিজ্ঞেস করা, তারপর প্রাকৃতিক যাকে সাড়া দেয়ার কথা বলার পর রাজ্জাক রাজাকার তাকে নিয়ে বাইরে যাওয়া এবং তখন নদী পার হয়ে পালিয়ে যাওয়া, এরপর ফজরের সময় মানিক পসারীর সাথে দেখা হওয়ার পর তাকে সব ঘটনা খুলে বলার কথা তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রদত্ত জবানবন্দীতে বলেননি।
পঞ্চম দিনের যুক্তি শেষে মামলার কার্যক্রম আগামীকাল পর্যন্ত মুলতবী করেন।
এর আগে গত বছরের ২৫ নভেম্বর সাঈদীর মামলার শুনানি করা হয়েছিল। পরে বিরোধীদলের হরতাল-অবরোধের কারণে আর শুনানি করা হয়নি।
গত বছরের ২৪ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাঈদীর বিরুদ্ধে দেওয়া ট্রাইব্যুনালের রায়ের ১২০ পৃষ্ঠা রায় পড়ে শোনান এ মামলার প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক ও এডভোকেট এসএম শাহজাহান। রায় পড়া শেষে সাক্ষ্য উপস্থাপন শুরু করা হয়। এ পর্যন্ত ১৯ কার্য দিবস মামলাটির আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান সমন্বয়কারী অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান।
আসামিপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক।
মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মাওলানা সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্রথম ট্রাইব্যুনাল।
এ রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৮ মার্চ মাওলানা সাঈদী ও সরকারপক্ষ পৃথক দু’টি আপিল (আপিল নম্বর: ৩৯ ও ৪০) দাখিল করেন।
[b]ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ৫ (টাইমনিউজবিডি.কম) // জিই[/b]
আপিলে মাওলানা সাঈদীর পঞ্চম দিনের যুক্তি
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাতায়াতে ইসলামী জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে যুক্তিতে আট নম্বর অভিয়োগের ওপর যুক্তি উপস্থাপন করে আসামীপক্ষ।
শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল
শুধু বিচারকের সংখ্যা বা আদালতের বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো কিংবা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। এ জন্য বিচারকদের দক্ষতা, সততা ও কর্মনিষ্ঠা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান বিচারিক কাঠামোর কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
দিল্লিজুড়ে ট্রেন-মেট্রো বন্ধ না রাখার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
ভারতের রাজধানীর যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি-সহ (সিজেপি) বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচির দিন, শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে ট্রেন, মেট্রো চলাচল বন্ধ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী।
বার সভাপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বাকবিতণ্ডা, এজলাস ছাড়লেন আপিল বিভাগ
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের জেরে এজলাস ছেড়ে খাস কামরায় চলে গেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।
মুক্তি পেলেন বিচারপতি খায়রুল
কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন আওয়ামীপন্থি সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক।
















