বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারিতে প্রাক্তন চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু ইস্যুতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নে অনেকটা নাজেহাল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে নিয়মিত মাসিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি উপস্থিত দুদক কর্মকর্তারা।

প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সেপ্টেম্বরের ২১, ২২ ও ২৩ তারিখে মোট ১৫৬ জনের বিরুদ্ধে ৫৬ মামলা দায়ের করলেও আসামি করা হয়নি প্রাক্তন চেয়ারম্যান বাচ্চুসহ পরিচালনা পর্ষদকে।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের মহাপরিচালক ড. মো. শামসুল আরেফিন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে যে অনুসন্ধান করেছি তাতে বাচ্চুর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এখন মামলাগুলোর তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত পর্যায়ে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আসামি করা হবে।’

কিন্তু অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ উচ্চ পর্যায়ে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন দুদকের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে বাচ্চুর সম্পৃক্ততা মিলেছে, এমন প্রশ্নের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে অনেকটা নাজেহাল অবস্থায় দেখা গেছে দুদক কর্মকর্তাদের।

দুদক পরিচালক নূর আহম্মদ বলেন, ‘দুদকের অনুসন্ধান পর্যায়ে আমাদের নথিপত্র জব্দ করার ক্ষমতা নেই। তবে তদন্ত পর্যায়ে এই ক্ষমতা রয়েছে। তাই আশা করি তদন্তে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো উঠে আসবে। তখন পরিচালনা পর্ষদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন তিনি।

মাসিক ব্রিফিংয়ে দুদকের পরিচালক মো. নূর আহম্মদ, পরিচালক মো. বেলাল ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টচার্য্য উপস্থিত ছিলেন।

২০১০ সালে বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে কমিশন। পাঁচ বছরে পাঁচবার অনুসন্ধানকারী টিম পুনর্গঠন করা হয়। সর্বশেষ দুদকের উপপরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি টিম এসব অভিযোগ অনুসন্ধান কাজ শেষ করেন।

মাসিক ব্রিফিংয়ে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেশ কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সেপ্টেম্বর মাসের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুদক মহাপরিচালক শামসুল আরেফিন বলেন, এ মাসে মোট ৮৮২টি অভিযোগ পাওযা গেছে। এর মধ্যে ৫৬টি অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ মাসে মোট ৮২টি মামলা হয়েছে ও ৫৪ মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

ইআর