দুদকের দায়ের করা অর্থ পাচার মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে শর্ত সাপেক্ষে স্থায়ী জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

বুধবার বিচারপতি রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এ জামিন আদেশের ফলে মোশাররফের মুক্তি পেতে কোন বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

আদালতে খন্দকার মোশাররফের পক্ষে শুনানি করেন,ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ,খন্দকার মাহবুব হোসেন। এছাড়া তার পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম খান।

মওদুদ আহমদ বলেন, খন্দকার মোশাররফকে স্থায়ীভাবে এ মামলায় জামিন দেয়া হয়েছে। এছাড়া মোশাররফের পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট আদালতে জমা দিতে হবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

এছাড়া বিদেশের যে ব্যাংকে মোশাররফের অর্থ রয়েছে তাদের সাথে তিনি কোন রকম যোগাযোগ করতে পারবেন না বলেও জানান ব্যারিস্টার মওদুদ।

এর আগে বেশ কয়েকবার হাইকোর্টের কয়েকটি বেঞ্চ খন্দকার মোশাররফের জামিন আবেদনের শুনানি না করে ফিরিয়ে দেন এবং তার জামিন না মঞ্জুর করেন।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদকের মামলায় বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছিলেন।

এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি দুদকের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বাতিল করেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আপিল বিভাগ।

এর আগে গত ১২ মার্চ বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুলশান-২ নম্বর সেকশনের রোড নম্বর ৫৫, হাউজ নম্বর ২৯ বিলকিস ভিলার বাসা থেকে গ্রেফতার হন ড. মোশাররফ। বর্তমানে তিনি দুদকের এই মামলায় কারাগারে আটক আছেন।

বিএনপির এই নেতার বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের পরিচালক নাসিম আনোয়ার বাদি হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা করেন। এতে ড. মোশাররফের স্ত্রী বিলকিস আক্তার হোসেনকেও আসামি করা হয়।

এর আগে দুদক কার্যালয়ে কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে মামলার অনুমোদন দেয়া হয়। ওই মামলায় ড. মোশাররফ হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেলেও আপিল বিভাগ ২৪ ফেব্রুয়ারি তা বাতিল করেন।

ওই মামলার এজাহারে বলা হয়, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে মোট নয় কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮১ টাকা অর্জন করেছেন।

পরে গোপনে যুক্তরাজ্যের লয়েডস টিএসবি অফশোর প্রাইভেট ব্যাংকে নিজের ও স্ত্রী বিলকিস আক্তার হোসেনের নামে যৌথ হিসাবে ওই পরিমাণ অর্থ জমা করা হয়।

ওই ব্যাংকের ১০৮৪৯২ নম্বর হিসাবে ফিক্সড টার্ম ডিপোজিট হিসেবে অর্থ জমা করা হয়। সরকারের কোনোরূপ অনুমতি ছাড়া গোপনে অসৎ উদ্দেশ্যে দেশ থেকে অর্থ পাচার করে তিনি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা, ২০০৯-এর ৪ ধারা লঙ্ঘন করেছেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, যুক্তরাজ্যের বাইলিবিক অব গুয়েরনসের ফিন্যান্সিয়াল ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পাচার করা ওই পরিমাণ অর্থ বর্তমানে জব্দ অবস্থায় আছে।

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের এক তদন্তে লয়েডস টিএসবি ব্যাংকে যৌথ হিসাবে ওই অর্থের তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে দুদক।

ঢাকা, কেএ, ৯ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর