বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায়ে উল্লিখিত পর্যবেক্ষণের অধিকাংশ অসত্য বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

আজ (মঙ্গলবার) সকালে সুপ্রিম কোর্ট বারের হলরুমে সিনিয়র আইনজীবীদের বৈঠকের এক পর্যায়ে জয়নুল একথা বলেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী আরও বলেন, “আমরা পুরো রায়টি পড়ে দেখেছি। এখন আপিলের প্রস্তুতির গ্রাউন্ড তৈরি করা হচ্ছে। আশা করছি, আজকের মধ্যেই আপিল দায়ে করতে পারব।”

জয়নুল আবেদীন বলেন, “পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ায় আমরা গতকাল রাতে বৈঠক করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সকালে বৈঠক করেছি। দুপুর সাড়ে ১২টায় পুনরায় বৈঠকে মিলিত হবো। এরপর আপিল দায়ের বিষয়টি আপনাদের জানিয়ে দেবো।”

গতকাল সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায়ের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল এবং জামিন আবেদনের কথা জানান তাঁর আইনজীবীরা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বকশিবাজারের আলীয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত ৫নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এবং তারেক রহমান’সহ বাকি ৫ আসামিদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড’সহ ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে আদালত।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এঁদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান’সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

রায়ের পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। নির্জন কারাগারের একমাত্র বন্দি হিসেবে বেগম জিয়া সেখানেই আছেন।

এমবি