চাকরি ছেড়ে পালানোর পথ খুঁজছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহা- পরিচালকসহ ৯ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। তারা স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে মাননিয়ে বাড়ি যাবার চেষ্টায় আছেন। কিন্তু কারা পালানোর সহজ পথ পাচ্ছেন না।

জানা যায়, ওই ৯ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এ অনুসন্ধানের খবর পেয়ে আতঙ্কে রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা সনদ জায়িাতকারী দুদকের কর্মকর্তারা।

এর মধ্যে অন্যতম দুদক মহাপরিচালক ( জেলা জজ) কামরুল হোসেন মোল্লাহ, পরিচালক গোলাম ইয়াহিয়া, পরিচালক আবদুল আজিজ ভূঁইয়া,উপ-পরিচালক ঢালী আবুদস সামাদ, উপ-পরিচালক এস এম গোলাম মাওলা সিদ্দিকী ও সাবেক উপ-পরিচালক রঞ্জন কুমার মজুমদার, সহকারী পরিদর্শক আবদুস সোবহান, কোর্ট সহকারী ( পুলিশের এএসআই) নুরুল ইসলাম ও কোট সহকারী পুলিশের এ এসআই ইসহাক ফকির।

জানা যায় , গত ২১ অক্টোবর দুদকে কর্মরত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। গত ২ নভেম্বর উপ-পরিচালক মোঃ জুলফিকার আলীকে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়।

আর গত ২ নভেম্বর দুদকের পরিচালক কথিত‘মুক্তিযোদ্ধা’ গোলাম ইয়াহিয়া স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার আবেদন জানান। এর পর থেকে তিনি আর অফিসে আসেন না। তবে তিনি কোথায় গেছেন, কেন অফিসে আসছেন না। তাও-বলতে পারছেন না কেউ।

গোলাম ইয়াহিয়া পিআরএল (পোস্ট রিটায়ারমেন্ট লিভ)র আবেদন পত্রে চলতিবছর ১ জুলাই থেকে পিআরএল-এর কার্যকরিতা দেয়ার অনুরোধ জানান। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চাকরির মেয়াদ একবছর বাড়িয়ে তিনি যে একমাস বেতন-ভাতা নিয়েছেন-সেটিও ফেরত দেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন।

জানা যায়, দুদকে কর্মরত ৯ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের পরই স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে অফিস গুটিয়েফেলছন পরিচালক গোলাম ইয়াহিয়া। কারণ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জাল সনদ গ্রহণ করে তিনি চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা নেন। গত জুন মাস থেকে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বর্ধিত মেয়াদে চাকরি করছিলেন। গত মে মাসে এ বিষয়টি মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়।

এদিকে আরেক মহা-পরিচালক জেলা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা আবেদন জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কোনো সুবিধা গ্রহণ না করার। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর পর তার টনক নড়েছে।

দুদকের আইন বিভাগের কর্মরত মহাপরিচালক হিসেবে (জেলা জজ) কামরুল হোসেন মোল্লা। গত সপ্তায় এক আবেদনে তার এ আগ্রহের কথা জানান। তবে দু’জনের আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

জানা যায়, বিগত সরকার ২০০৯ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির মেয়াদ ২ বছর বাড়ানোর ঘোষণা দিলে মুক্তিযুদ্ধের সনদ গ্রহণের হিড়িক পড়ে। চাকরিতে যোগদানের সময় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা না করলেও নানা কৌশলে বহু সরকারি চাকরিজীবী সনদ বাগিয়ে এ সুবিধা গ্রহণ করেন। তবে সরকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ প্রদানে ৪টি ক্রাইটেরিয়া বেধে দেয়।

এগুলো হচ্ছে, (১) চাকরিতে যোগদান কালে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদপ্রার্থী নিজে কোনো ঘোষণা দিয়েছিলেন কি না। (২) মুক্তিবার্তায় (লাল বই) প্রার্থীর নাম আছে কি না। (৩) ২০১০ সালে আগে প্রকাশিত গেজেট সমুহে তার নাম রয়েছে কি না এবং (৪) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত সনদ আছে কি না।

এসব ক্রাইটেরিয়ার আলোকে দুদক সচিব পর্যায়ের ৪ আমলার মুক্তিযুদ্ধ সনদ বাতিল ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। এর ভিত্তিতে ২ সচিব স্বেচ্ছায় অবসরে যান, এক যুগ্ম-সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজিপি হেমায়েত হোসেন, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানসহ আরো কয়েকজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তার মুক্তিযোদ্ধা সনদও যাচাই করছে দুদক।

একে/এসএইচ