ইয়াবার ব্যবসার পাশাপাশি একটি ডাকাত দল নিয়ন্ত্রণ করতো সুমন। সুমনের নের্তৃত্বে রাজধানীসহ ঢাকার আশপাশ এলাকায় ডাকাতিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছিল চক্রটি। নিহত সাজুও ছিল এই চক্রের একজন সদস্য।
তারা ডাকাতির আগে ও পরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে ওই বাসাটিতে মিলিত হতো। এখান থেকেই তারা বিভিন্ন অপকর্ম সংঘঠিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করতো।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায় র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০) এর কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার গোলাম সারোয়ার।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরের একটি বাসায় চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনার জড়িত অভিযোগে সুজন, তার স্ত্রী আফসানা এবং রিক্সা চালক চাঁন মিয়াকে আটক করেছে র্যাব-১০।
মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহ শহরের বড় বাড়ি এলাকার একটি ৬ তলা বিশিষ্ট বাসার দ্বিতলা থেকে সুমন ও তার স্ত্রী আফসানাকে গ্রেফতার করা হয়।
তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী পলায়নকালে ব্যবহৃত একটি গাড়ী যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। গাড়ীটি গ্যারেজে রাখার দায়ে চান মিয়া নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের দাবি, সুমন ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারী। তবে সংবাদ সম্মেলণে মিডিয়ার সামনে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সুমন। একইভাবে অস্বীকার করেছে চান মিয়া।
তিনি জানান, আমি ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না। ঘটনার চার দিন পর আমার গ্যারেজে টাকার বিনিময়ে গাড়ী রাখতে আসে সুমন ও তার স্ত্রী। দুদিনের কথা বলে তারা এক সপ্তাহ অতিবাহিত করে।
পরে র্যাব গিয়ে আমাকে আটক করে নিয়ে আসে। ঘটনার সাথে কোনো ধরণের যোগসাজশ নেই বলে দাবি করেন চান মিয়া।
এব্যাপারে র্যাব-১০ অধিনায়ক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার গোলাম সারোয়ার বলেন, গ্রেফতারকৃত সুমন, আফসানা ও চান মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, নিহত সাজু ও হত্যাকারীরা একই সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য।
সম্প্রতি তাদের মধ্যেকার একাধিক জনের স্ত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন নিহত সাজু। বিষয়টি জানাজানির পর সবাই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সাজুর উপর।
গ্রেফতারকৃত সুমন র্যাবকে জানিয়েছে, নিহত সাজুকে সুমনের স্ত্রী আফসানা ভাই ডাকলেও তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বিষয়টি জানতে পেরে সুমন নিজেও সাজুর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।
এছাড়াও নানা অপকর্মের ঘটনায় তাদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরই জের সাজু ও তার স্ত্রী রনজি বেগম, ছেলে ইমরান ও মেয়ে শানজিদা মুনিকে হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ড সংঘটিত করে তারা গাড়ী নিয়ে পালিয়ে যায়। গাড়ীটি চালক ছিলেন নাছির।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারকৃত সুমন বলেন, হত্যাকান্ডের তিন চার মাস আগে বাসাটি ভাড়া নেয়া হয়। ভাড়া নেবার সময় কেয়ারটেকারের সাথে কথা বলেছিল জনি আর সিএনজি সুমন ওরফে মিতা (বন্ধু) সুমন। তবে ওই বাসায় সাজু পরিবার নিয়ে থাকতো। সাজু নিজে ইয়াবার ব্যবসা করতেন।
তিনি নিজে রাজধানী মার্কেটে জুতার ব্যবসা করতো দাবি করে বলেন, ওই অপরাধী চক্রের সাথে তার কোনো ধরণের সম্পর্ক নেই। ইয়াবার ব্যবসার সাথেও নিজে জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার রাতের বর্ণণা দিতে গিয়ে সুমনের স্ত্রী আফসানা জানান, ঘটনার দিন সাজু ভাই আমাকে বাসায় ডেকে নেন। সেখানে যাবার পরপরেই জনি, মিতা সুমন ও নাছিরও চলে আসে। তারা এসে আমার মাধ্যমে স্বামী সুমনকেও ডেকে নেয়। এরপর আমাদের উপস্থিতিতে সাজুকে গলায় গামছা পেচিয়ে হত্যা করে।
অপরকক্ষে আমার সামনে একইভাবে সাজুর স্ত্রী রনজিকে হত্যা করে। বাচ্চা দুটোকে গলা টিপে হত্যা করে জনি ও মিতা সুমন এবং নাছির। এসব ঘটনার পরিকল্পনা সম্পর্কে তারা পূর্ব থেকে কিছুই জানতো না বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, কেরানীগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ৪ হত্যাকান্ডের ঘটনায় এর আগে ডিবি পুলিশ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। একই ঘটনায় আটক করলো আরও তিন জন। এঘটনায় মোট ১০জনকে আটক করা হলো।
জেইউ/কেএইচ/এসএইচ





