সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানাধীন ৭নং মোগলগাঁও ইউনিয়নের লামাকাজী সুরমা নদীতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। দিনের পর দিন এ অবস্থা চলতে থাকলেও প্রশাসন এ ক্ষেত্রে রহস্যময় ভূমিকা পালন করছে।
তবে মাঝে মধ্যে উপর মহলের নির্দেশে বালু উত্তোলন বন্ধ হলেও ২/১ দিন পর তা আবার শুরু হয়ে যায়। এর ফলে সুরাম তীরবর্তী বাসিন্দাদের বসত বাড়ি, ফসলী জমী, লালারগাঁও বাজার, জালালাবাদ পোষ্ট অফিস, মসজিদ, মাদ্রাসা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ রাস্তাঘাট নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম।
বালু উত্তোলন বন্ধে ইতিমধ্যে উপজেলার হাউসা,চাঁনপুর, মোগলগাঁও, খিত্তারগাঁও, লালারগাঁও, চৌধুরীগাঁও, তালুকপাড়া, খালপাড়, ফতেহপুর, মিরেরগাঁও, আকিলপুর, মৌলভীরগাঁও, দশগ্রাম বাজারসহ আশপাশের গ্রামের সুরমা পারের স্থায়ী বাসিন্দারা সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অর্ধশত অধিবাসী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। স্মারকলিপি দায়েরের পর সাময়িকভাবে এ কার্যক্রম বন্ধ হলেও বর্তমানে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।
ভাঙ্গন কবলিত গ্রামবাসীর পক্ষে এ.কে.এম আব্দুল্লাহ চেয়ারম্যান গত ২৭ আগস্ট পুনরায় স্মারকলিপি পেশ করেন।
সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সিলেট সদর উপজেলার লামাকাজী সুরমা নদীর পূর্ব চরের বন্দ নামক স্থান থেকে নদীর উত্তর পারের লালারগাঁও, চৌধুরীগাঁও, খিত্তারগাঁও ও মোল্লারগাঁও এলাকায় সুমন এন্ড জহিরুল নামক ড্রেজার মেশিন দ্বারা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
অথচ গত চার মাস পূর্বে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সুরমা নদীতে বালু মহাল সৃজনের বিষয়ে ইউএনও কে নির্দেশ দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।
অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে অত্র এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও অন্যান্য স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।
গত মাস চারেক আগে সুরমা নদীতে বালু উত্তোলনের খবর স্থানীয় এবং জাতীয় ভাবে প্রচারিত হলে তখন প্রশাসন নড়চড়ে উঠে। সম্প্রতি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে।
সিলেট সদর উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান এ ব্যাপারে আলাপকালে জানান, এ উপজেলায় কোথাও বালু উত্তোলন করা হয়নি। উপজেলা প্রশাসন অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তবে জেলা প্রশাসন থেকে খবর পাওয়ার পর সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তারা দিনব্যাপী অভিযান চালিয়েছে উপজেলার সর্বত্র।
সুরমা নদীর উত্তর পারের লালারগাঁও, চৌধুরী, খিত্তারগাঁও ও মোগলগাঁও এলাকায় বসানো সুমন এন্ড জহিরুল নামক ড্রেজার মেশিনটির ব্যাপারে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
৭নং মোগলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ হিরণ মিয়া জানান, আমি ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমার ইউনিয়নের নদীর দ্বারে যারা বসবাস করে আসচ্ছেন তাদেরকে আশস্ত করেছি যে, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর আমার ইউনিয়নের আশপাশে কোন ড্রেজার মেশিন বসানো যাবে না।
কিন্তু সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যা ও শিবের বাজারের হুজুর মাওলানা আলহাজ্ব আশফাক আহমদ, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, আলহাজ্ব ডিম মোঃ নিজাম চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহ জামাল নুরুল হুদার উৎকুচের বিনিময়ে তাদেরকে ৫০% হারে লাভ দেওয়ার ফলে বর্তমানে জমির মালিকদের কে ১০% করে বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
কিন্তু আমার ইউনিয়নের মানুষ বর্তমানে বশত- ভিটা বিলিন হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতেছে।
বালু বিক্রেতাকারী মোঃ আঙ্গুর আলম বলেন, আমার বাবার জমির বালু আমি মাগনা দিয়ে দিবো, তাতে কার কি আশে। আমি টাকা দিয়ে বিক্রি করি আর যাই করি, এতে কার কি আসে যায়।
এছাড়া, ড্রেজার ব্যবসায়ী মোঃ ছালিক মিয়া জানান, আমাকে বালু উত্তোলন করতে জমির মালিক আঙ্গুর আলম, সুহেল আহমদ ও খলিল উদ্দিন এর নির্দেশে বালু উত্তোলন করে আসিতেছি। আমাকে বন্ধ করার নির্দেশ দিলে তারা আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়বীতি প্রদর্শন করে। তাই আমি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
মোগলগাঁও ইউনিয়নের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আমির আহমদ মোস্তফা জানান, ৭নং মোগলগাঁও ইউনিয়নকে ধ্বংস করতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, আশফাক আহমদ, ডিম নিজাম উদ্দিন, শাহ জামাল নুরুল হুদা, শামসুল ইসলাম টুনু, নজির আহমদ আজাদ ও এ.কে.এম আব্দুল্লাহ চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন ভাবে ক্ষতির দারপ্রান্তে পৌছে গেছে। যেমন গতকিছুদিন আগে খাটিয়া বিলের ইজারা বর্ণিত ব্যাক্তির চত্রছায়ায় অবৈধভাবে ইজারা প্রদান করে আমাদেরকে অন্যায়ভাবে গরীব মৎস্যজীর অনেক টাকা ধ্বংস করে তারা লাভবান হচ্ছেন।
তাই আমি আমার ইউনিয়ন কে রক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন দপ্তরের নিজ নিজ স্মারকলিপি প্রেশ করা হয়েছে।
আমির/এসএম





