মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য আগামী ১৮ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাতবের সহকারী পুলিশ সুপার ওয়ারেছ আলী কোনো প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারেক মাইনুল ইসলাম ভুঁইয়া আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর গত ৩০ মাসেও মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ নিয়ে ৩০ মাসে ২৬ বার মামলার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছালো।
মামলার বিভিন্ন আলামতের সাথে গ্রেফতার ৮ আসামি ও সন্দেহভাজন ২১ আত্মীয় স্বজনের ডিএনএ টেস্ট রিপোর্টের উপরেই এখন ভরসা র্যাসবের।
সাগর রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে চেয়ে গত ১৬ মার্চ ঢাকার সিএমএম আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন তলব করেছিলেন।
আদালতের নির্দেশে গত ২০ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারেছ আলী আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, মামলায় জব্দকৃত আলামতের সাথে ম্যাচিং করার জন্য গ্রেফতারকৃত ৮ আসামি ও সন্দেহভাজন ২১ আত্মীয়-স্বজনের নমুনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। আংশিক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, কিন্তু বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রাপ্ত ডিএনএ প্রতিবেদন ও তদন্ত ফলাফলের উপর ভিত্তি করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন এ সাংবাদিক দম্পতি।
এরপর তিন তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা থানার এসআই জহুরুল ইসলাম, ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রবিউল আলম ও র্যা বের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার জাফর উল্লাহ’র হাত ঘুরে বর্তমানে হাত ঘুরে বর্তমানে র্যা বের সহকারী পুলিশ সুপার ওয়ারেছ আলী মিয়া মামলাটি তদন্ত করছেন।
মামলার বাদি নিহত মেহেরুন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, সাগর-রুনি হত্যার তদন্তে বর্তমানে কোনো অগ্রগতি নেই। র্যাাব তদন্ত অগ্রগতির কোনো খবরও আমাদের জানায় না।
মামলাটি দীর্ঘ সময় তদন্ত করেছেন র্যা বের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার জাফর উল্লাহ। সম্প্রতি তিনি মিশনে গেছেন।
ঘটনার ৮ মাস পর ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর বনানী থানার একটি হত্যা ও ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার থাকা ৫ আসামি মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু, বকুল মিয়া, কামরুল হাসান অরুন, রফিকুল ইসলাম ও আবু সাঈদকে গ্রেফতার দেখিয়ে এ মামলায় রিমান্ড চাওয়া হয়।
এছাড়া ওইদিনই আরও দুই আসামি রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমান ও বাড়ির দারোয়ান পলাশ রুদ্র পালকে গ্রেফতার এবং পরবর্তীতে অপর দারোয়ান আসামি এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবিরকে গ্রেফতার করা ছাড়া গত দুই বছরে মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি নাই।
মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এবং সময় ক্ষেপণ করায় গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





