অপহরণের ২৬ দিন পরও উদ্ধার হয়নি রাজধানীর সাইন্সল্যাব থেকে অপহৃত চিকিৎসক ইকবাল মাহমুদ। পরিবারের দাবি, গত ১৪ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকায় এসে বাস থেকে নামার পরই সাদা একটি মাইক্রোবাসে তাকে তুলে নিয়ে যায় ৬/৭ জন যুবক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সাদা মাইক্রোবাসের পেছনেই একটি পুলিশের গাড়ি ছিলো।

তবে পুলিশ বলছে, দেখতে পুলিশের গাড়ি মনে হলেও সেটি তাদের নয়। পাশাপাশি অপহরণকারীকে ধরতে চেষ্টা চলছে বলেও জানায় পুলিশ।

পরিবারের দাবি, অক্টোবর মাসের ১৪ তারিখ গভীর রাতে লক্ষ্মীপুর থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় প্রশিক্ষণ নিতে ঢাকায় আসেন ২৮তম বিসিএসের চিকিৎসক ইকবাল মাহমুদ। তিনি বাস থেকে সায়েন্সল্যাব মোড়ে নামার সাথে সাথে কয়েকজন যুবক তাকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় বলে দাবি করে তার পরিবার।

সংগৃহিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রয়েল নামে একটি বাস থামার পর আড়ংয়ের সামনে ডা. ইকবালসহ তিনজন যাত্রী নেমে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস ও মটর সাইকেল এসে দাঁড়ায়। যেখান থেকে ৬/৭ জন যুবক নেমে এতে ডা. ইকবালকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

তবে সবার পিছনে দেখা যায় একটি পুলিশের গাড়ি। যেখানে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকেও বসে থাকতে দেখা যায়। সেদিন রাতে ডা. ইকবালকে সাইন্সল্যাব থেকে বাসায় নিয়ে যেতে আসা তার ভাই জানান, ঘটনার পরই তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ডাক্তার ইকবালের ভাই আরো বলেন, আমি এখানে যারা রিক্সাওয়ালা ছিল, চা খাইতে ছিল তাদের জিজ্ঞাসা করলাম। তারা আমাকে জানিয়েছেন একজনকে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ।

ইকবালের বাবা মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম নুরুল আলম বলেন, সিসিটিভির ফুটেজে যে ভিডিও দেখা গেছে তাতে আমার ধারণা আমার ছেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আছে।  

তিনি বলেন, তার কোন দোষত্রুটি পেয়ে থাকলে আদালতের মাধ্যমে তার বিচার করা হোক। সে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও সরকারি কর্মকর্তা।

মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম জানান, ছেলের সন্ধানে তিনি সব জায়গায় ধর্না দিয়েছেন। ডিজিএফআই, থানা, র‌্যাব থেকে শুরু করে সব জায়গায় ছেলের সন্ধানে ছুটে বেড়াচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তা ব্যক্তিদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম বলেন, আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই, তাকে ফিরিয়ে দেন।  

এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানায় মামলা করা হয়েছে। ডা. ইকবালের বাবার দাবি, এর সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জড়িত। তবে ধানমন্ডি থানা বলছে, পুলিশের গাড়ির মতো যানবাহন ব্যবহার করে অন্য কেউ এ কাজ করেছে।

ধানমন্ডি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো: হেলাল উদ্দিন বলেন, পুলিশের পিকআপ ভ্যানের মতো গাড়ি এখন অনেক প্রতিষ্ঠানের রয়েছে। কোন গাড়ি কিভাবে তাকে নিয়ে গেছে আমরা পরে গিয়ে তা বের করতে পারি নাই।

মাইক্রোবাসের পিছনে পুলিশের একটি গাড়িতে পুলিশ ছিল সেই বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা হেলাল বলেন, পুলিশের মতো পোশাক এখন অনেক গার্ডদের রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা এরই মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারায়, মিরেরসরাই, জোরালগঞ্জ ও লক্ষীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় এরইমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। (সূত্র: সময় টিভি)

কেবি