মুক্তিযুদ্ধে সহায়তকারি বিদেশী বন্ধুদের দেয়া সম্মাননার নামে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার ক্রেস্টের সোনা জালিয়াতির ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে বাধাগ্রস্তের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি দুদকে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত  দিচ্ছে না মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এদিকে  দুদকের অনুসন্ধানী টিমের জিজ্ঞাসাবাদের খসড়া তালিকায় রয়েছেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব:) তাজুল ইসলাম, সাবেক সচিব মোঃ মিজানুর রহমান, বর্তমান সচিব

কে.এইচ. মাসুদ সিদ্দিকী, সম্মাননা উপ-কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত সচিব (ওএসডি) গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম সচিব (ওএসডি) আবুল কাসেম তালুকদার, মজিবুর রহমান মামুন, সিনিয়র সহকারি সচিব মোঃ বাবুল মিঞা, ক্রেস্ট সরবরাহকারী এমিকনের মালিক দাউদ আহমেদ নাজিম, মেসার্স মহসিন হাসানের মালিক মহসিন হাসান এবং ক্রেস্টের মাণ ও পরিমাণ নির্ণয় ও প্রত্যয়নকারী তিন কর্মকর্তার নাম রয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে জানা যায়।

গত ১২ জুন দুদকের  উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম এবং সহকারি পরিচালক শেখ আব্দুস সালামের তথ্য উপাত্ত চেয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান। চিঠিতে ১৯ জুনের মধ্যে তথ্য চাওয়া হয়।

কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দুদকের ওই চিঠি মোতাবেক তথ্য দেয়নি বলে জানা যায়। দুদক ইতোমধ্যে ক্রেস্টের সোনা জালিয়াতির ঘটনায় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে। ওই তথ্যের মধ্যে রয়েছে, এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত রিপোর্ট এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়ের করা মামলার নথিসহ  বেশকিছু তথ্য উপাত্ত।

জালিয়াতির বিষয়টির সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে দুদক সরকারের কাছে অফিসিয়াল তথ্য চেয়েছে। এরমধ্যে বিদেশী বন্ধুদের সম্মাননা প্রদান সংক্রান্ত বৈঠকের সিদ্ধান্ত, জাতীয় কমিটির সভার এজেন্ডা, রেজুলেশন, ক্রেস্ট তৈরির দরপত্র, দরপত্র মূল্যায়ণ সভার রেজুলেশন, ক্রেস্ট সরবরাহকারী দুই প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান, ক্রেস্টের মান ও পরিমাণ যাচাই সংক্রান্ত প্রতিবেদন, হিসাব ও বিল পরিশোধ সংক্রান্ত  রেকর্ড-পত্র রয়েছে।

নাম না প্রকাশের শর্তে দুদকের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ক্রেস্টের সোনা জালিয়াতির ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষার জন্যই তড়িঘড়ি করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় একটি মামলা দায়ের করেছে। তবে দুদকের অনুসন্ধানে অবশ্যই বেরিয়ে আসবে ক্রেস্টের সোনা জালিয়াতির মাধ্যমে সাড়ে  ৭ কোটি টাকা আত্মসাৎকারীদের তালিকা। কারণ বিদেশীদের কাছে ওই চক্রটি বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করেছে। ফলে তারা কোনোভাবেই রেহাই পাবে না বলেও মন্তব্য করেন দুদকের ওই কর্মকর্তারা।

দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ বলেন, অনুসন্ধান কর্মকর্তারা প্রয়োজন মনে করলে সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং আমলাদের জিজ্ঞাসাবাদ বা তলব করতেই পারেন। আইন অনুযায়ী দুদকের অনুসন্ধান চলবে।

ঢাকা, একে, ১৯ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসআর