ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত ডিআইজি মিজানুর রহমানকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আজ উপস্থিত করা হয়। এসময় তাকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েও জামিন শুনানির দীর্ঘ ১ ঘণ্টায় বেশ হাসিমুখে ছিলেন তিনি।

আজ (০২ জুলাই) মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশেষ নিরাপত্তায় শাহবাগ থানা থেকে আদালতে উপস্থিত করানো হয় পুলিশের এই উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি)কে।

আদালতে আনার পর এজলাসের পেছনের একটি বেঞ্চে বসতে দেওয়া হয় তাকে। ওইখানে বসা অবস্থায় তার কাছে থাকা মোবাইলফোনে ১১টা ৪ মিনিটে একটি কল আসে। এসময় তিনি প্যান্টের পকেট থেকে ফোন বের করে কল রিসিভ করে কথা বলেন। কথা শেষ করে ফোনটি পকেটে রেখে দেন।

এসময় এজলাসে বসে ফোনে কথা বলার বিষয়ে আইনজীবী ও অন্যরা সমালোচনা করেন। তবে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা এই বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেননি।

এজলাসে শুনানির পূর্বে ডিআইজি মিজানের সঙ্গে দু’জন লোককেও বেশ কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতর দিয়ে এসে কথা বলতে দেখা যায়। বেলা ১১টা ৩১ মিনিটে আসামি ডিআইজি মিজানুর রহমানের মামলা শুনানির জন্য ডাকা হয়।

তিনি বেঞ্চ থেকে উঠে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ান। তার নিয়োজিত আইনজীবী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দীর্ঘ ১ ঘণ্টা শুনানি করেন। এসময় মিজান আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।

১২টা ৩৪ মিনিটে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দুর্নীতির অনুসন্ধানে নেমে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন-এমন অভিযোগের পক্ষে ঘুষ লেনদেনের অডিও কথোপকথন প্রকাশের পর সম্প্রতি আলোচনায় আসেন ডিআইজি মিজান। এই ঘটনার পরপরই বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রীকে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। এছাড়া এক সংবাদ পাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে মিজানুরের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) হয়। নারী নির্যাতনের অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।

দুদক কর্মকর্তার সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিজানকে সাময়িক বরখাস্তের একটি প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। পরে ২৫ জুন মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

অন্যদিকে, মিজানের ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ প্রশাসন। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। যদিও নারী নির্যাতন, ঘুষ প্রদান, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে দুই বছর ধরে মিজানুরের নাম আলোচনায় এলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

২৪ জুন ৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে মিজানুরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগনে পুলিশের কোতোয়ালি থানার এসআই মো. মাহমুদুল হাসানকে আসামি করা হয়।

এমবি