আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীনসহ চার নির্বাচন কমিশনার ও একজন সিনিয়র সহকারী সচিব।
রোববার নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার প্রেক্ষিতে বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।
গত ৭ এপ্রিল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে এক আবেদনে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড ভোটকেন্দ্রের ভোট ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও কারচুপির কারণে ভোট বাতিল বা পুনঃনির্বাচনের আবেদন করেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. জাহিদুল ইসলাম।
আবেদনটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ৬ নম্বর চরভৈরবী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. জাহিদুল ইসলাম সিইসিসহ ছয়জনকে প্রতিপক্ষ করে হাইকোর্ট বিভাগে পিটিশন দায়ের করেন। হাইকোর্টের রিট পিটিশন নম্বর ৭৯৮৫/২০১৬। এ পরিপ্রেক্ষিতে আদেশের কপি পাওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে এ অভিযোগের নিষ্পত্তি করার জন্যে ১৬ জুন রুল জারিসহ আদেশ দেন আদালত।
হাইকোর্টের আদেশের কপি ইসি সচিবালয় ৩০ জুন ও আইন শাখা ১০ জুলাই তারিখে হাতে পায়।
অভিযোগের নিষ্পত্তি হিসেবে ১৮ জুলাই প্রার্থীকে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পরামর্শ দেয় ইসি।
ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত একপত্রে অভিযোগের নিষ্পত্তির বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহিদুলকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার ইউপি আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে দরখাস্ত পেশের মাধ্যমে প্রতিকার পেতে পারেন বলে ইসি সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
এ ইউপির ফল গেজেটে প্রকাশ না হওয়ার আগেই ইসির আদালতে যাওয়ার পরামর্শের বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করেন অভিযোগকারী।
জাহিদুল ইসলাম ইসির এ চিঠিকে চ্যালেঞ্জ করে এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশনাসহ সিইসি, চার নির্বাচন কমিশনার ও সিনিয়র সহকারী সচিবকে ‘কনটেম্পটনার রেসপনডেন্টস’ করে হাইকোর্ট বিভাগে পিটিশন আবেদন করেন।
এ পরিপ্রেক্ষিতে ৭ অগাস্ট প্রধান নির্বাচন নির্বাচন কমিশনার, চার নির্বাচন কমিশনার ও সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মিজানুর রহমানকে ‘কনটেম্পট রুল’ জারিসহ আদেশ দেন আদালত।
ফলাফল গেজেটে প্রকাশের আগে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার ইসির সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চান আদালত। সেই সঙ্গে সিইসি, চার নির্বাচন কমিশনার ও সিনিয়র সহকারী সচিবকে কন আদালত অবমাননার জন্য দায়ী করা হবে না- তার কারণ দর্শাতেও বলা হয়।
আদালত অবমাননার জন্য সংশ্লিষ্টদের আদালতের সামনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে তা ব্যাখ্যা করার জন্যও বলেছে। তবে সাংবিধানিক সংস্থা বিবেচনায় তাদের আইনজীবী বা প্রতিনিধির মাধ্যমেও ১৪ নভেম্বরের মধ্যে রুলের জবাব দিতে কমিশনকে নির্দেশ দেন আদালত।
ইসির কর্মকর্তারা বলেন, ইতোমধ্যে কমিশনের সবার পক্ষে হলফনামা করে আদালতে ইসির অবস্থান তুলে ধরা হলেও তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি আদালত। প্রত্যেককে পৃথক পৃথকভাবে উপস্থিত হয়ে হলফনামা দেওয়ার জন্য বলা হয়। এ অবস্থায় রিটের শুনানির দিন রোববার নির্ধারিত হয়। সে জন্য শনিবার সিইসি ও চার নির্বাচন কমিশনার স্বশরীরে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার অফিসে উপস্থিত হয়ে হলফনামা করে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন।এরপর গত ২৬ নভেম্বর সিইসি ও চার নির্বাচন কমিশনার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রার শাখায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া’ সংক্রান্ত এফিডেভিটে স্বাক্ষরসহ আবেদন করেন।
জারিফ





