পেশায় মিষ্টি ব্যবসায়ী। কিন্তু মিষ্টি ব্যবসার আড়ালে গড়ে তুলেছেন অবৈধ স্বর্ণের ব্যবসা। আর তাতেই কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন শেখ মোহাম্মদ আলী ওরফে এস কে মোহাম্মদ আলী।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হিসাবে অবৈধ ব্যবসা করে তিনি প্রায় ৪০ কোটি ৯১ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন।

সোমবার বিপুল এ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এস কে মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। দুদক উপপরিচালক জালাল উদ্দিন আহাম্মদ বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগ পত্রে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় শেখ মোহাম্মদ আলী ওরফে এস কে মোহাম্মদ আলী গোপনকৃত ও জ্ঞাতআয় বহির্ভূত ৪০ কোটি ৯১ লাখ ৮১ হাজার ৩৭৫ টাকার সম্পদ নিজ নামে অর্জনপূর্বক তা ভোগ দখলে রেখেছেন।

মোহাম্মদ আলীর সম্পদ বিবরণী, আয়কর সংক্রান্ত কাগজপত্র, বিভিন্ন অফিসে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র এবং আসামির প্রতিনিধির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রেরিত রেকর্ড পর্যালোচনা করা হয়।

পর্যালোচনায় প্রাপ্ত তথ্যাদির আলোকে দেখা যায়, দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে শেখ মোহাম্মদ আলী ৪ কোটি ৮৮ লাখ ৬৬ হাজার ১৫০ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ২৫ কোটি ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৪৭৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে ৩০ কোটি ৭৮ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন।

এদিকে শেখ মোহাম্মদ আলীর আয়কর নথি (৩০/০৬/১৬ ইং) অনুসারে তার মোট সম্পদ ৩০ কোটি ৪৮ লাখ ১৮ হাজার ৪৬২ টাকা।

তবে আয়কর নথিতে দেখা যায়, শেখ মোহাম্মদ আলী একাধিকবার বিভিন্ন সময়ে কালো টাকা ও অপ্রদর্শিত টাকা এসআরও মূলে বৈধ করেছেন। এতে প্রতীয়মান হয় যে, আয়কর বিভাগে ঘোষিত সম্পদের মধ্যেও কিছু কালো/অবৈধ/অপ্রর্শিত টাকা ছিল যা বিভিন্ন সময়ে এসআরও মূলে বৈধ করেছেন।

এরপর দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, শেখ মোহাম্মদ আলী ‘আলী সুইটস’ নামে ৭৫৪, সাত মসজিদ রোড, ঢাকায় মিষ্টির ব্যবসা দিয়ে তার কর্ম জীবন শুরু করেন। বর্তমানে উক্ত স্থানে ফুলকলি নামে পার্টনারশিপে মিষ্টির ব্যবসা করছেন।

স্পিড মানি এক্সচেঞ্জার নামে তার ১৫, তাতী বাজার, ঢাকায় মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবসা রয়েছে। তাছাড়া তিনি সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ার ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন।

দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে শেখ মোহাম্মদ আলী তার নিজ নামে মোট ৪ কোটি ৮৮ লাখ ৬৬ হাজার ১৫০ টাকার স্থাবর সম্পদের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু অনুসন্ধান ও যাচাইকালে প্রাপ্ত তথ্যমতে শেখ মোহাম্মদ আলী কর্তৃক দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীর স্থাবর অংশে ১১নং ক্রমিকে বর্ণিত মালঞ্চ কুমার পাড়া, সিলেট সদর, সিলেট (বাড়ী নং-১৩/৩, মানিকপীর রোড, কুমার পাড়া, সিলেট) এ অবস্থিত ৬ তলা ভবনটি সিলেট গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী কর্তৃক পরিমাপ গ্রহণ করা হয়। ওই ভবন পরিমাপে তার নির্মাণ ব্যয় ৯৫ লাখ ১১ হাজার ৩৭৫ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারিত হয় যা দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ঘোষণা দেননি।

এছাড়া তার নামে বরাদ্দ প্রাপ্ত প্লট নং-৩, রোড নং-৪০১, সেক্টর-১৬, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প, রাজউক, ঢাকায় জমির পরিমাণ ১০ কাঠা যার মূল্য ৩০ লাখ টাকা দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ঘোষণা দেননি তিনি।

এতে দেখা যায়, শেখ মোহাম্মদ আলী মোট ১ কোটি ২৫ লাখ ১১ হাজার ৩৭৫ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে গোপন করেছেন। এ সম্পদসহ মোট ৬ কোটি ১৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫২৫ টাকার স্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়।

পাশাপাশি দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে শেখ মোহাম্মদ আলী তার নিজ নামে মোট ২৫ কোটি ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৪৭৩ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দিয়েছেন।

কিন্তু অনুসন্ধানে ৬১.৫৩৮ কেজি স্বর্ণ যার মূল্য ৩০ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা, সৌদি রিয়াল/বিদেশি মুদ্রা ৩ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও দেশী মুদ্রা ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৯০ হাজার টাকাসহ মোট ৩৯ কোটি ৬৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে গোপন করেছেন।

গোপনকৃত ও জ্ঞাতআয় বহির্ভূত ৩৯ হাজার ৬৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার সম্পদসহ মোট ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ ৪৭৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়।

স্থাবর-অস্থাবর সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ কোটি ৯১ লাখ ৮১ হহাজার ৩৭৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন কথিত মিষ্টি ব্যবসায়ী শেখ মোহাম্মদ আলী।

এএস