বাংলাদেশে সংগঠিত হতে না পেরে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে জঙ্গিরা। ভারতে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। জঙ্গি নেতা সাজিদের স্ত্রী ফাতেমা ছিল এই নেটওয়ার্কের মহিলা শাখার প্রশিক্ষক। বর্ধমানের হামলার পর গ্রেফতার এড়াতে ফাতেমা ভারত থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।
রোববার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
মনিরুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশের ৫/৬ জন জঙ্গি ভারতের বর্ধমান হামলার সাথে জড়িত ছিল বলে ভারতের তদন্তকারী সংস্থা এনআই-এর দেয়া তথ্যে জানা যায়।
সে তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে শেখ রহমাতুল্লাহ ওরফে সাদিজ ওরফে মাসুমের স্ত্রী ফামেতাসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন আব্দুল্লাহ কাজী, মো. ইশরাত আলী ও মো. শওকত সরদার।
মনিরুল ইসলাম জানান, বর্ধমান হামলার পর তার স্বামী সাজিদ গ্রেফতার হলে কয়েকদিন আত্মগোপনে থাকে ফাতেমা। পরে সুযোগ বুঝে পালিয়ে বাংলাদেশে আসে। ফাতেমার বাড়ি বাগেরহাট জেলায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত অন্যরা বর্ধমান হামলার সাথে জড়িত কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ফাতেমা বর্ধমান হামলার সাথে জড়িত ছিল বলে অপকটে স্বীকার করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
মনিরুল ইসলাম জানান, সাজিদ ভারতে জেএমবি’র পলিটিক্যাল শাখার প্রধান হিসেবে কাজ করে আসছে। এনআই আমাদের জানিয়েছে ভারতে জেএমবি নেটওয়ার্কের আর্মস শাখার আরও একজন শীর্ষনেতা রয়েছেন তিনিও বাংলাদেশী। তবে এই মূহুর্তে তিনি বাংলাদেশে না ভারতে অবস্থান করছেন তা জানাতে পারেনি ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআই।
মনিরুল ইসলাম বলেন, স্বামী সাজিদের সাথে ভারতে গিয়ে বর্ধমানের শিমুলিয়া মহিলা মাদ্রাসায় নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের টার্গেট করে ভর্তি করাতো। এরপর অর্থ দিয়ে সহায়তা করতো। পরবর্তিতে জেএমবি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাতো। এরকম ২০/২৫ জন নারীকে শারীরিক ও ক্ষুদ্রাস্ত্র ব্যবহার প্রশিক্ষণ দিয়েছে ফাতেমা। এই নারীদের মধ্যে ৪/৫ জন বাংলাদেশি।
এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ভারতে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করে জেএমবি সুবিধা বুঝে ভারত ও বাংলাদেশে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। এজন্য তারা ডেটোনেটরসহ বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য ভারতে মজুত করে। জেএমবি’র হাই কমান্ডের নির্দেশনা পেলেই হামলা করা হতো বলে ভারত পুলিশের বরাতে জানা গেছে।
তিনি বলেন, ফাতেমার সাথে গ্রেফতারকৃত অপর তিন জঙ্গি ২০০৪/০৫ সালের দিকে জেএমবিতে যোগদান করে। গোপালগঞ্জে ব্র্যাক ব্যাংক ডাকাতির সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ২০১১ সালে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে সাজিদ ও নূর নামে অপর জেএমবি সদস্যে’র সাথে যোগাযোগ করে আসছিল বলে দাবি করেন মনিরুল ইসলাম।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) শেখ নাজমুল ইসলাম, উপকমিশনার কৃঞ্চপদ রায় (দক্ষিণ), ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান।
জেইউ/ এআর





